Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নাট্য ইতিহাসচর্চা কেন্দ্র, ‘থিয়েটার’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে প্রথমেই ভেসে ওঠে অভিনেতা-অভিনেত্রীর অভিনয়, সংলাপ, আবেগ কিংবা নাটকের কাহিনি (Sayan Bhattacharjee)। কেউ কেউ আবার ভাবেন নাট্যকার, পরিচালক বা নাট্যদলের কথা। কিন্তু একটি নাট্যপ্রযোজনা যে কত অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত শিল্পসাধনার ফসল, সেই বাস্তবতা অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়। মঞ্চসজ্জা, আলোক পরিকল্পনা, সংগীত, শব্দ, মেক-আপ, পোশাক, প্রপস, নৃত্য, গবেষণা, নাট্যরূপ, দর্শনচিন্তা—এই সমস্ত উপাদানের সমন্বয়েই একটি পূর্ণাঙ্গ থিয়েটার নির্মিত হয়।
অর্থাৎ থিয়েটার কেবল অভিনয়ের শিল্প নয়; এটি ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, দর্শন, নন্দনতত্ত্ব এবং মানুষের সম্মিলিত সৃজনশীলতার এক অনন্য প্রকাশ। সেই অদেখা ও অনালোচিত দিকগুলোকেই সামনে এনে থিয়েটারকে নতুনভাবে বোঝার প্রয়াস নিয়েছে ‘মঞ্চের ইতিকথা’ শীর্ষক এই বিশেষ কোর্স।

থিয়েটারের ইতিহাস জানার প্রয়োজন কেন? (Sayan Bhattacharjee)
একজন দর্শক যেমন নাটক দেখে আনন্দ পান, তেমনই একজন থিয়েটারকর্মীর জন্য নাটকের ইতিহাস, নাট্যরীতি এবং বিশ্ব থিয়েটারের বিবর্তন সম্পর্কে ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কারণ একটি নাটক কেবল একটি গল্প নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সময়, সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং মানুষের চিন্তার বিবর্তন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাট্যচর্চা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কীভাবে আধুনিক থিয়েটারকে সমৃদ্ধ করেছে, সেই ইতিহাস জানলে নাটকের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত হয়। অভিনয়, নির্দেশনা কিংবা নাট্যরচনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই জ্ঞান নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।
বাংলা ভাষায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ (Sayan Bhattacharjee)
বাংলা ভাষায় থিয়েটারের ইতিহাস, অভিনয়চর্চা এবং বিশ্ব নাট্যপরম্পরা নিয়ে এমন সুসংগঠিত পাঠক্রম খুব কমই দেখা যায়। এই কোর্সের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এখানে শুধু তথ্য পরিবেশন নয়; বরং আলোচনার মাধ্যমে নাটককে বোঝা, বিশ্লেষণ করা এবং ইতিহাসের সঙ্গে তার সম্পর্ক অনুধাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই আয়োজন বিশেষভাবে উপযোগী—
থিয়েটারকর্মীদের জন্য।
নাট্যপ্রেমী দর্শকদের জন্য।
অভিনয় শিখতে আগ্রহীদের জন্য।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার শিক্ষার্থীদের জন্য।
গবেষক ও নাট্যঅনুরাগীদের জন্য।
কোর্স সূচি ও আলোচ্য বিষয়
প্রথম পর্ব : নাট্য পাঠ দিবস
তারিখ : ১ জুলাই ২০২৬
একটি নাটক কীভাবে পড়তে হয়?
নাটক পড়া কি শুধুই সংলাপ মুখস্থ করা? এই দিনের আলোচনায় সেই ধারণাই বদলে যাবে। আলোচ্য বিষয়
নাটক পাঠের সঠিক পদ্ধতি। নাটক বিশ্লেষণের মূল দিকগুলি। নাটকের রচনাকাল, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সামাজিক গুরুত্ব। একটি সম্পূর্ণ নাটক পাঠ ও তার বিশ্লেষণ। এই পর্ব নাট্যপাঠকে একটি গবেষণামূলক এবং সৃজনশীল অভিজ্ঞতায় পরিণত করবে।
দ্বিতীয় পর্ব : অনুবাদ নাট্য দিবস
তারিখ : ৫ জুলাই ও ৮ জুলাই ২০২৬
বিশ্বসাহিত্য ও বিশ্বনাট্যকে বাংলা ভাষার দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে অনুবাদের ভূমিকা অপরিসীম। বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে বহু গুরুত্বপূর্ণ নাটক অনুবাদের মাধ্যমেই এসেছে।
আলোচ্য বিষয়
নাট্য অনুবাদের প্রয়োজনীয়তা।
অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্ব সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ।
বাংলা থিয়েটারে অনূদিত নাটকের প্রভাব।
অনুবাদ কীভাবে নাট্যভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে।
এই আলোচনায় স্পষ্ট হবে যে, অনুবাদ শুধুমাত্র ভাষান্তর নয়—এটি সংস্কৃতিরও আদান-প্রদান।
তৃতীয় পর্ব : জাপানি নাট্য দিবস
তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
জাপানের নাট্যঐতিহ্য বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ নাট্যধারা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা এই নাট্যরীতি আজও বিশ্বনাট্যে গভীর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।

আলোচ্য বিষয়
জাপানি থিয়েটারের উৎস ও ইতিহাস।
নো (Noh) নাট্যরীতি।
কিওগেন (Kyogen)-এর ব্যঙ্গধর্মী ঐতিহ্য।
কাবুকি (Kabuki)-র অভিনয়শৈলী ও মঞ্চভাষা।
বানরাকু (Bunraku) পুতুলনাট্যের শিল্পরীতি।
বিশ্ব নাট্যচর্চায় জাপানি থিয়েটারের প্রভাব।
এই পর্ব এশীয় নাট্যচিন্তার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
চতুর্থ পর্ব : ভিয়েতনামী নাট্য দিবস
তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নাট্যঐতিহ্যের মধ্যে ভিয়েতনামের নাট্যসংস্কৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। লোকজ সংস্কৃতি, সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যকলার এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায় তাদের নাট্যধারায়।
আলোচ্য বিষয়
ভিয়েতনামী থিয়েটারের ইতিহাস।
চেও (Chèo) নাট্যরীতি।
তুওয়ং (Tuồng)-এর ঐতিহ্য।
কাউ লুওং (Cải Lương)-এর আধুনিক নাট্যধারা।
ওয়াটার পাপেট্রি বা মুয়া রোই নুওক (Múa Rối Nước)-এর অনন্য শিল্পরূপ।
বিশ্ব নাট্য ইতিহাসে ভিয়েতনামী নাটকের অবদান।
এই আলোচনা অংশগ্রহণকারীদের এশিয়ার বহুমাত্রিক নাট্যসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে তুলবে।
কোর্সের বিশেষ বৈশিষ্ট্য (Sayan Bhattacharjee)
এই পাঠক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা—
থিয়েটারের ইতিহাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করবেন।
নাটক বিশ্লেষণের দক্ষতা অর্জন করবেন।
বিশ্ব নাট্যচর্চার বিভিন্ন ধারার সঙ্গে পরিচিত হবেন।
বাংলা থিয়েটারের বিকাশকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে পারবেন।
অভিনয় ও নির্দেশনার নন্দনতাত্ত্বিক ভিত্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন।
এটি কেবল একটি কর্মশালা নয়; বরং থিয়েটারকে গভীরভাবে বোঝার একটি শিক্ষামূলক ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ।
প্রশিক্ষক সায়ন ভট্টাচার্য (Sayan Bhattacharjee)
অভিনেতা ও থিয়েটারোলজিস্ট
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আকাদেমির ‘বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর মেধাবৃত্তি’ (২০২৫–২৬)-এর প্রাপক সায়ন ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে থিয়েটার গবেষণা, অভিনয় এবং নাট্য ইতিহাস নিয়ে কাজ করে চলেছেন। তাঁর পাঠদানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করার দক্ষতা এবং বিশ্ব নাট্যচর্চাকে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস।
কারা অংশগ্রহণ করবেন?
থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা।
নতুন অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক।
নাট্যরচনায় আগ্রহী শিক্ষার্থী।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির পাঠক।
গবেষক।
নাট্যরসিক দর্শক।
বিশ্ব নাট্য ইতিহাস জানতে আগ্রহী যে কোনও ব্যক্তি।
রেজিস্ট্রেশন
যোগাযোগ: ৯৮৭৪৪২৭১৬৭
আরও পড়ুন: Jyoti Basu: রাজনীতির কিংবদন্তি জ্যোতি বসু, আজও আলোচনার কেন্দ্রে তাঁর নাম

শেষকথা
থিয়েটারকে কেবল মঞ্চে অভিনীত একটি শিল্পরূপ হিসেবে দেখলে তার বিশাল জগৎকে সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায় না। একটি নাটকের জন্ম থেকে মঞ্চায়ন পর্যন্ত অসংখ্য শিল্পী, কারিগর, গবেষক এবং চিন্তাশীল মানুষের অবদান মিলে তৈরি হয় একটি পূর্ণাঙ্গ নাট্যপ্রযোজনা। সেই অজানা ইতিহাস, নন্দনতত্ত্ব, বিশ্ব নাট্যপরম্পরা এবং অভিনয়চর্চার বিস্তৃত পরিসরকে সহজ, প্রাঞ্জল এবং গবেষণাভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সকলের সামনে তুলে ধরাই ‘মঞ্চের ইতিকথা’-র মূল উদ্দেশ্য। যারা থিয়েটারকে শুধু ভালোবাসেন না, বরং তাকে গভীরভাবে জানতে, বুঝতে এবং নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান, তাঁদের জন্য এই কোর্স নিঃসন্দেহে এক মূল্যবান শিক্ষাযাত্রা।



