Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দশজনের সুইসদের বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয়ে (FIFA World Cup 2026) সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা। আলভারেজের অবিশ্বাস্য গোলে বেঁচে রইল মেসির বিশ্বকাপ জয়ের আশা। শেষ চারে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
কষ্টার্জিত জয় মেসিদের (FIFA World Cup 2026)
কেপ ভার্দে, ইজিপ্টের পর এবার দশজনের সুইৎজারল্যান্ডের (FIFA World Cup 2026) বিরুদ্ধেও কষ্টার্জিত জয় মেসিদের। রবিবার রুদ্ধশ্বাস কোয়ার্টার ফাইনালে সুইৎজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচের ফলাফল ১-১ থাকলেও এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করে জয় তুলে নিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে এবার মেসিদের প্রতিপক্ষ নরওয়েকে হারিয়ে শেষ চারে ওঠা ইংল্যান্ড।
ভাগ্য এবং মেসি ম্যাজিক সঙ্গী আর্জেন্টিনার (FIFA World Cup 2026)
এই বিশ্বকাপের প্রথম থেকে ভাগ্য এবং মেসি ম্যাজিক সঙ্গী (FIFA World Cup 2026) হয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনার। রবিবার শেষ আটের লড়াইয়ে সুইসদের বিরুদ্ধেও তার ব্যতিক্রম হল না। তবে এদিন সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও একবার দেখা গেল আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের শ্রেষ্ঠত্ব এবং অবশ্যই জুলিয়ান আলভারেজের ম্যাজিক। এই এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয়ার্ধে আলভারেজের অবিশ্বাস্য গোলেই সুইৎজারল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
রাউন্ড অফ ৩২-এ কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের কষ্টার্জিত গোলে জয় (FIFA World Cup 2026) পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেদিনই আর্জেন্টিনার ডিফেন্স নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। প্রি-কোয়ার্টারেও ইজিপ্টের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে মেসি ম্যাজিকে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেও আর্জেন্টাইন ডিফেন্স ছারখার করে দিয়েছিল ইজিপ্ট। রবিবার সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তার ব্যতিক্রম হল না। জয়ের জন্য মেসিদের এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয়ার্ধ অবধি টেনে নিয়ে গেল সুইসরা। তবে এদিন শুরুটা দুরন্ত করেছিল আর্জেন্টিনা। ১০ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন ম্যাক অ্যালিস্টার। বিশ্বকাপে এই নিয়ে দশটি অ্যাসিস্ট করে মারাদোনাকে টপকে গেলেন মেসি। কিন্তু গোল করার পর অদ্ভুতভাবে যেন গুটিয়ে গেল গোটা আর্জেন্টিনা দলটা। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্রমশ ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেন এম্বোলো, রাইডার, জাকারা। কিন্তু আর্জেন্টাইন গোলের নিচে এমি মার্টিনেজ অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠায় সমতা ফেরাতে পারেনি সুইৎজারল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও মাঠে দাপট দেখা যায় সুইসদের (FIFA World Cup 2026)। আর্জেন্টাইন নড়বড়ে ডিফেন্সকে টপকে একাধিকবার গোল করার মতো জায়গাতে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। কিন্তু একা কুম্ভ হয়ে দুর্গ রক্ষা করলেন এমি। কিন্তু সুইসদের বেশিক্ষণ ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি স্কালোনির দলের। ৬৭ মিনিটে সুইসদের হয়ে সমতা ফেরান এনডয়ে।
কোয়ার্টার ফাইনালেও ভাগ্য সদয় ছিল আর্জেন্টিনার (FIFA World Cup 2026)। ৭২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইস আক্রমণের অন্যতম অস্ত্র এম্বোলো। জোড়া হলুদ কার্ড দেখায় তাঁকে লাল কার্ড দেন রেফারি। নির্ধারিত সময়ের শেষ ১৮ মিনিট দশজনের সুইজারল্যান্ডকে পেয়েও গোল সংখ্যা বাড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুন: Bikash Ranjan: এনকাউন্টার নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি বিকাশরঞ্জনের
অবধারিতভাবে ম্যাচ গড়ায় এক্সট্রা টাইমে (FIFA World Cup 2026)। সেখানেও প্রথম ১৫ মিনিট সুইস ডিফেন্সের কাছে আটকে যায় মেসি, মার্টিনেজরা। সবাই যখন প্রায় ধরেই নিয়েছে, টাইব্রেকার এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে, তখনই এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বলে ওঠে আর্জেন্টিনা। ১১২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের বাঁক খাওয়ানো অবিশ্বাস্য জোরালো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ফরওয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেজ। ম্যাচের ম্যাজিক্যাল মুহূর্ত সেটাই।
তখনও মেসেজ যবনিকা পড়তে ৮ মিনিট বাকি (FIFA World Cup 2026)। গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ১০ জনের সুইৎজারল্যান্ড। সুইসদের আক্রমণ থেকে নিজেদের বক্সে বল পেয়ে পাল্টা আক্রমণ দৌড় শুরু করেন লাউতেরো মার্টিনে। ফাঁকায় বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকে ডায়াগনাল পাশে বল বাড়ান বাঁ প্রান্তে থাকা সতীর্থকে। সতীর্থের গোলমুখী শট সুইস গোলরক্ষক প্রতিহত করলে ফিরতি বল ড্রপ শটে জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয় এবং সেমিফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করে দেন মার্টিনেজ।
সুইসদের বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয়ের পরও আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির কপালে চিন্তার ভাঁজ থেকেই গেল। প্রতি ম্যাচেই দল যেভাবে ভুরি ভুরি গোল হজম করছে, তাতে ডিফেন্সের ফাঁকফোকর গুলো থেকেই যাচ্ছে। সেমিফাইনালে এবার সামনে ইংল্যান্ড। চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম বড় এবং কঠিন প্রতিপক্ষের সম্মুখীন হতে চলেছে আর্জেন্টাইন ডিফেন্স। তার উপর, বেলিংহ্যাম, হ্যারি কেনরা যে ফর্মে রয়েছেন, তা স্কালোনির ঘুম উড়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। কারণ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও পিছিয়ে পড়লে, এবং শেষ মুহূর্তে গোল পরিশোধ করে জয় তুলে নেওয়ার ভাবনা যদি থাকে আর্জেন্টাইন শিবিরের, তাহলে তারা বোকামি করবে। কারণ প্রতিদিন মেসি ম্যাজিক এবং ভাগ্য সদয় হবে, তা কিন্তু নয়।


