Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককের এক জনপ্রিয় পানশালায় গভীর রাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড (Bangkok Pub Fire)। কয়েক মুহূর্ত আগেও যেখানে চলছিল গান, নাচ, আড্ডা আর উৎসবের আমেজ, সেখানেই হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। নিমেষের মধ্যে কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা ভবন। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি শুরু হলেও আগুনের গ্রাসে চলে যায় মূল প্রবেশপথ। ফলে বহু মানুষ ভিতরেই আটকে পড়েন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মধ্যরাতের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল বিভীষিকায়
রবিবার গভীর রাতে উত্তর ব্যাঙ্ককের না লাদপ্রাও পাবে যথেষ্ট ভিড় ছিল। সপ্তাহান্তের আনন্দ উপভোগ করতে বহু মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। কেউ গান শুনছিলেন, কেউ নাচছিলেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎই স্টেজের কাছাকাছি এলাকা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেই ধোঁয়া ঘন কালো আকার ধারণ করে এবং প্রবল আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি এতটাই দ্রুত বদলে যায় যে কেউ বুঝে ওঠার আগেই আগুন পুরো হলঘর গ্রাস করে ফেলে।
আগুনে বন্ধ হয়ে যায় একমাত্র বেরোনোর পথ (Bangkok Pub Fire)
আগুন লাগার পর আতঙ্কিত হয়ে সবাই একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পানশালার মূল প্রবেশ ও নির্গমন পথই আগুনে ঢেকে যায়। ফলে বহু মানুষ ভিতরে আটকে পড়েন। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে ভবনের পিছনের দিকে ছুটে যান। পরে উদ্ধারকারীরা পাবের পিছনের শৌচাগারের সামনে থেকে একাধিক দেহ উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ধোঁয়া থেকে বাঁচতে গিয়েই তাঁরা সেখানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
বিষাক্ত ধোঁয়াতেই অধিকাংশের মৃত্যু (Bangkok Pub Fire)
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুন লাগার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো ভবন ঘন ধোঁয়ায় ভরে যায়। আগুনের শিখা দ্রুত সিলিং পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং অত্যন্ত দাহ্য অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কারণে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাঙ্ককের গভর্নর জানান, অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু আগুনে পুড়ে নয়, বরং বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে হয়েছে। ধোঁয়ার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে অনেকেই বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি।
আধ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। প্রায় ৩০ মিনিটের টানা প্রচেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। উদ্ধারকাজ চলাকালীন ধোঁয়ায় ভরা ভবনের বিভিন্ন অংশে আটকে থাকা মানুষদের বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মৃত ২৭, হাসপাতালে ৬৩ জন (Bangkok Pub Fire)
সরকারি হিসাব অনুযায়ী এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২ জনের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন গভর্নর ও প্রধানমন্ত্রী
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন ব্যাঙ্ককের গভর্নর। পরে সেখানে যান থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। তাঁরা উদ্ধারকাজ তদারকি করেন এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন। নিহতদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।
শর্ট সার্কিট থেকেই কি আগুন? (Bangkok Pub Fire)
আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, পানশালায় পারফর্ম করা এক সঙ্গীতশিল্পী প্রথম স্টেজের পাশে থাকা একটি সার্কিট ব্রেকার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে গোটা পানশালা ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে যায়। বিশেষজ্ঞদের একটি দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: Dum Dum Airport: বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ হল নামাজ
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থাইল্যান্ডে বিনোদন কেন্দ্রগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় জনসমাগমের জায়গায় পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ, কার্যকর ফায়ার অ্যালার্ম, স্প্রিংকলার ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া থাকলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এই দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পানশালায় নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



