Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রথমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan)। মঙ্গলবার নবান্নের সভাঘরে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, রাজ্য মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গের কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির আর্থিক ক্ষমতায়ন নিয়ে যৌথভাবে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।
১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজ (Shivraj Singh Chouhan)
গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে সবচেয়ে বড় ঘোষণা আসে কাজের দিনের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে। এতদিন যেখানে বছরে ১০০ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল, সেখানে এবার তা বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। শুধু কাজের দিনই নয়, উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরিও। নতুন মজুরি কাঠামো, গ্রামীণ অদক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা, আধা-দক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৪৫০ টাকা, দক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা, এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্য কোনও বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রয়োজন অনুসারে অতিরিক্ত আরও ৫০ দিনের কাজ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
১২৫ দিনের কর্মসূচির জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১২৫ দিনের কর্মসূচি চালানোর জন্য ৮,৫০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই প্রকল্পে মোট তহবিলের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১২,০৬৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাতেই তৈরি হবে ‘বীজ হাব’, কৃষিতে আত্মনির্ভরতার পথে বড় পদক্ষেপ কৃষিক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে উন্নতমানের বীজের জন্য পশ্চিমবঙ্গকে অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাব-সহ অন্যান্য রাজ্যের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। সেই নির্ভরতা কাটিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গেই গড়ে তোলা হবে একটি আধুনিক ‘বীজ হাব’। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর)-এর প্রবীণ বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি এগ্রিকালচার রোডম্যাপ বা কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে, উন্নতমানের বীজ উৎপাদন, বৈজ্ঞানিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার, কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে আরও আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের আশা।
বন্ধ থাকা ৮২ হাজার কোটির উন্নয়ন প্রকল্পে ফের গতি (Shivraj Singh Chouhan)
শিবরাজ সিং চৌহান দাবি করেন, পূর্বতন সরকারের অসহযোগিতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে প্রায় ৮২,৪৯২ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প আটকে ছিল। এর মধ্যে ছিল, জাতীয় সড়ক নির্মাণ, এক্সপ্রেসওয়ে, রেলপথ উন্নয়ন, মেট্রো সম্প্রসারণ, গ্যাস পাইপলাইন, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত প্রকল্প। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমস্ত প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য বড় আর্থিক সহায়তা (Shivraj Singh Chouhan)
বৈঠকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘লাখপতি দিদি’ এবং দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-র আওতায় রাজ্যের প্রায় ৮০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য, ২৪৫ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ এবং ৫০ কোটি টাকার কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড মুক্ত করা হয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসা, উৎপাদন, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ এবং গ্রামীণ শিল্পের প্রসারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Abhisek Banerjee: কণ্ঠস্বরের নমুনা মামলায় অস্বস্তিতে অভিষেক, দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ
কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন রূপরেখা
নবান্নের এই বৈঠক শুধু প্রশাসনিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না, বরং কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। একদিকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অন্যদিকে কৃষিকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা সব মিলিয়ে একাধিক ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে উন্নয়নের নতুন রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।



