Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিনটি ছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই। বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের আগুন জ্বলে উঠেছিল সারা বিশ্বে। ইতিহাসের সেই বিপ্লবের চেতনার দিনেই ফ্রান্সের এবারের বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ করে দিল ‘স্প্যানিশ আর্মাডা’ (Spain vs France Semifinal)।এমবাপে-ডেম্বেলেদের তারকাসমৃদ্ধ দলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল লামিন ইয়ামালদের তারুণ্যে ভরা স্পেন। ওয়ারজাবাল ও পোরোর গোলে অন্যতম ফেভারিট হয়েও বিদায় নিতে হল গতবারের রানার্সদের। নেইমার, হাল্যান্ড, রোনাল্ডোর পর এবার বিদায় নিলেন চলতি বিশ্বকাপে ৮ গোল করা ফরাসি তারকা এমবাপেও।
তারুণ্যের দাপটে ধূলিসাৎ অভিজ্ঞতা (Spain vs France Semifinal)
ম্যাচের আগে ইয়ামালের সেই ‘হুমকি’ যে কেবল কথার ফুলঝুরি ছিল না, তা মাঠে প্রমাণ করে দিলেন স্প্যানিশ তরুণরা। একদিকে অভিজ্ঞ ফরাসি ব্রিগেড, আর অন্যদিকে লুইস দে লা ফয়েন্তের তারুণ্যনির্ভর স্পেন লড়াইটা শেষ পর্যন্ত হয়ে দাঁড়াল উদ্দীপনা বনাম ক্লান্তির (Spain vs France Semifinal)। ম্যাচের শুরু থেকেই দানি ওলমো, রড্রিরা যে ফুটবল শৈলী দেখালেন, তাতে ফ্রান্সের এমবাপে-ডেম্বেলে-ওলিসে ত্রিভুজ যেন নিজেদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।
বিপত্তি ও পেনাল্টি (Spain vs France Semifinal)
ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় লুকাস ডিগনের ভুলে পেনাল্টি উপহার পেয়ে যায় স্পেন। তা যথাযথ কাজে লাগান ওয়ারজাবাল। ম্যাচের ২২ মিনিটে ঠান্ডা মাথার শট থেকে গোল হতেই ফ্রান্সের (Spain vs France Semifinal) রক্ষণে ভাঙন ধরে। চলতি মরশুমে দেশের হয়ে ১৪টি গোল হয়ে গেল তাঁর। এর ওপর সালিবার চোট যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে নেমে এল। গোটা বিশ্বকাপে যারা একবারও পিছিয়ে পড়েনি, তারা যেন দুগোল খাওয়ার পর নিজেদের খুঁজে পাচ্ছিল না। এদিন স্প্যানিশ আক্রমণের দাপট ছিল বেশি। ইয়ামাল, রড্রিরা সুযোগও পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু গোল করতে ব্যর্থ হন। তারমধ্যেই ২৯ মিনিটে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ফরাসি ডিফেন্ডার সালিবা। দেশঁর সব পরিকল্পনা সেখানেই ভেস্তে যায়। এক প্রকার বাধ্য হয়েই পরির্বতন করতে হয় ফরাসি কোচকে। সালিবার জায়গায় নামেন ল্যাক্রয়িক্স। তারপরও প্রথমার্ধের শেষের দিকে গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠেছিল ফ্রান্স। মনে হচ্ছিল ছন্দে ফিরছে তারা। কিন্তু স্প্যানিশ ডিফেন্স টপকানো সম্ভব না হওয়ায় ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের বিরতিতে যেতে হয় ফ্রান্সকে।
আরও পড়ুন: World Cup 2026: টুখেল-বেলিংহ্যাম বিতর্কে মুখ খুললেন হ্যারি কেন!

দ্বিতীয়ার্ধের চিত্রনাট্য ও ফরাসি দীর্ঘশ্বাস (Spain vs France Semifinal)
বিরতির পর দিদিয়ের দেশঁ ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও স্পেনের আগ্রাসী মনোভাবের কাছে তা ছিল ম্লান। ৫৮ মিনিটে পোরোর দুরন্ত গোল ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। গোলরক্ষক উনাই সিমোন যেন এদিন অভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কেবল গোল বাঁচানোই নয়, বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসে ফ্রান্সের সমস্ত আক্রমণ তিনি যেভাবে নস্যাৎ করলেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। ট্রফি জয়ের পথে লা ফয়েন্তের ছেলেরা। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ফ্রান্সের কাঁধ ততটাই যেন নুয়ে পড়েছে। এমবাপেরা (Spain vs France Semifinal) শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেই চেনা ঝাঁজ, সেই ধার হারিয়ে গিয়েছিল বাস্তিলের ঐতিহাসিক দিনে। গত তিনবার নকআউটে ফ্রান্সকে হারিয়ে স্পেন এখন প্রমাণ করে দিল, তারা কেবল ফেভারিট নয়, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ক্ষুধার্ত। ফরাসি বিপ্লবের সেই মহান দিনে বাস্তিলের বুকে ফ্রান্সের স্বপ্ন যখন চূর্ণ হলো, তখন স্পেনের আকাশজুড়ে নতুন দিনের আলোর হাতছানি। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে জিতল তারুণ্য, হারল গত দুইবারের ফাইনালিস্ট। এবার কি তবে স্পেনের মাথায় উঠবে বিশ্বকাপের মুকুট? প্রশ্নটা এখন ফুটবল বিশ্বের প্রতিটি কোণে ভাসছে।



