Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দমদম বিমানবন্দর চত্বরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বাঁকড়া মসজিদ (গৌরীপুর জামে মসজিদ) ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই তৈরি হয়েছিল উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি (Dumdum Airport)। মসজিদে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সংখ্যালঘু নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী কর্মসূচির ডাক দেওয়ায় প্রশাসন আগাম সতর্কতা হিসেবে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট ও সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF), কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং জলকামান। তবে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ঘটে পরে। বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করার পর সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি জানান, শুক্রবার আর কোনও কর্মসূচি হবে না। যদিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ তিনি প্রকাশ্যে জানাননি।

বিমানবন্দরে গিয়েও ফিরে গেলেন সিদ্দিকুল্লা (Dumdum Airport)
শুক্রবার সকালে বিমানবন্দর চত্বরে পৌঁছেছিলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সেখানে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর তিনি জানান, আপাতত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হচ্ছে। এরপর তিনি বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হলেও তিনি বিস্তারিত কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে কর্মসূচি প্রত্যাহারের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
১৩৬ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে বাঁকড়া মসজিদ (Dumdum Airport)
দমদম বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে অবস্থিত গৌরীপুর জামে মসজিদ, যা সাধারণ মানুষের কাছে বাঁকড়া মসজিদ নামে বেশি পরিচিত, প্রায় ১৩৬ বছরের পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপাসনাস্থল। কিন্তু বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার কারণে বহু বছর ধরেই এই মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
কেন মসজিদ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত? (Dumdum Airport)
দমদম বিমানবন্দরে বর্তমানে দুটি রানওয়ে রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান রানওয়েটি দিয়ে অধিকাংশ বিমান ওঠানামা করে। দ্বিতীয় রানওয়েটি আকারে তুলনামূলক ছোট এবং তার খুব কাছেই অবস্থিত বাঁকড়া মসজিদ। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলে বড় বিমানকে দ্বিতীয় রানওয়ে ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু মসজিদের অবস্থানের কারণে নিরাপত্তাজনিত জটিলতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে দ্বিতীয় রানওয়ের সম্প্রসারণের কাজও দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবিষ্যতের বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং রানওয়ে সম্প্রসারণের স্বার্থেই মসজিদটি স্থানান্তর করা প্রয়োজন।

ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়েছে প্রবেশ ও নামাজ (Dumdum Airport)
স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরের ভিতর দিয়ে মসজিদে প্রবেশের জন্য দেওয়া এন্ট্রি পাস বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের ভিতরে নিয়মিত নামাজ আদায়ও বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষিতেই শুক্রবার নামাজ আদায়ের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
১৬৩ ধারা জারি করে কড়া নজরদারি (Dumdum Airport)
সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় বিধাননগর পুলিশ বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এবং আশপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে। এই ধারার আওতায় নির্দিষ্ট এলাকায় জমায়েত ও সম্ভাব্য উত্তেজনামূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকালে থেকেই এলাকায় ছিল, বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF), কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, জলকামান, নিয়মিত পুলিশ টহল, পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, কোনও ধরনের অবৈধ জমায়েত বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
বিমানযাত্রীদের স্বাভাবিক পরিষেবা বজায় রাখতে জোর
প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল যাতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত না হয়। শুক্রবারও বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি যৌথভাবে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালায়। যাত্রীদের যাতায়াতে যাতে কোনও সমস্যা না হয় এবং বিমান ওঠানামা নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সে বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন: PoK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গণবিক্ষোভ: উত্তাল মুজফফরাবাদ, চরমে উত্তেজনা
অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ
বাঁকড়া মসজিদকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা স্থানান্তরের প্রশ্ন নয়; এটি একদিকে ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়, অন্যদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা যাতে উন্নয়ন ও ধর্মীয় অধিকারের মধ্যে যথাসম্ভব ভারসাম্য বজায় থাকে।



