Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। যোগ্য দল হয়েই ফুয়েন্তের ছেলেরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে (Argentina Fan)। তবে এই বিশ্বকাপের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে আর্জেন্টিনা। একের পর এক বিতর্ক। বিশ্বকাপ জুরে আর্জেন্টিনা হল বিতর্কের সমার্থক। মাঠে মেসিদের ফুটবলের চেয়েও অনেকের কাছে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনার হার। প্রশ্ন উঠছে, কেন ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসির দেশই অনেকের কাছে ‘শত্রু’ হয়ে উঠল? বিশ্লেষণের নিরিখে উঠে আসছে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের লাগামহীন আচরণ এবং তাদের ‘অসভ্যতা’।
গ্যালারিতে তাণ্ডব ও অসভ্যতার সীমা লঙ্ঘন (Argentina Fan)
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা ভক্তদের (Argentina Fan) একাংশের আচরণ ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে টাইমস স্কোয়্যারের মতো জনবহুল স্থানেও তাদের বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়েছে। আলজেরিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে ঝামেলা থেকে শুরু করে টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, ততই তাদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো। কেপ ভার্দে এবং মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচে যখন ফুটবলাররা মাঠে লড়াই করছেন, তখন গ্যালারিতে আর্জেন্টাইন ভক্তরা প্রতিপক্ষ সমর্থকদের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে চড়াও হয়েছেন। গালিগালাজ, বিয়ারের বোতল নিক্ষেপ এবং বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্যের মতো জঘন্য কাজগুলো করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের পর তো তারা শালীনতার সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। ইংল্যান্ডের জাতীয় পতাকায় আগুন ধরানো এবং রাস্তায় ফেলে পতাকা লাঞ্ছিত করার ঘটনা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নীরবতা (Argentina Fan)
সমর্থকদের এই উগ্র আচরণের নেপথ্যে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক মদত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্টের ইংল্যান্ড সমর্থকদের নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্য সমর্থকদের আরও উত্তেজিত করেছে। এছাড়া, ফিফার পক্ষ থেকে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভের পারদ আরও বেড়েছে।
রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ (Argentina Fan)
মাঠের বাইরে সোশাল মিডিয়াতেও আর্জেন্টিনা ভক্তদের ‘দাদাগিরি’ ছিল চোখে পড়ার মতো। কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলপ্রেমীদের নিশানা করে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার ঘটনা অহরহ ঘটেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে রেফারির পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার গুঞ্জন। যদিও এর কোনও জোরালো প্রমাণ নেই, তবুও এই ধারণা বিশ্বব্যাপী মেসিদের দলের প্রতি এক ধরণের নেতিবাচক আবহ তৈরি করেছে।
মেসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন (Argentina Fan)
ক্রীড়ামহলের অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আর্জেন্টিনা ভক্তদের এই বাড়াবাড়ি থামানোর দায়িত্ব অনেকাংশেই ছিল লিওনেল মেসির। উদাহরণ হিসেবে ২০১৯ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে আনা হচ্ছে, যখন ভারতীয় সমর্থকরা স্টিভ স্মিথকে বিদ্রূপ করলে অধিনায়ক বিরাট কোহলি নিজে দাঁড়িয়ে তা বন্ধ করেছিলেন। মেসি বা আর্জেন্টাইন টিম ম্যানেজমেন্ট যদি শুরুতেই ভক্তদের এই অভব্য আচরণের বিরুদ্ধে সরব হতেন, তবে হয়তো এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
আরও পড়ুন: কবে, কোথায় পাওয়া যাবে ডার্বির টিকিট?
ফুটবল খেলার মাঠে আবেগ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই আবেগ যখন বর্ণবিদ্বেষ, জাতীয় পতাকার অসম্মান এবং অন্যের ওপর শারীরিক আক্রমণের রূপ নেয়, তখন তা খেলার সৌন্দর্য নষ্ট করে। মেসির মতো একজন মহানায়কের দল কেন বিশ্বব্যাপী অপছন্দের তালিকায় উঠে এল, তার দায়ভার সম্ভবত সেই ভক্তদের ওপরই বর্তায়, যারা নিজেদের অন্ধ সমর্থনের আড়ালে খেলার স্পিরিটকেই বিসর্জন দিয়েছেন।



