Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ২১ জুলাই শুধু একটি দিন নয়, বরং আবেগ, ইতিহাস এবং রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম বড় মঞ্চ (Congress)। দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থেকেছে। ধর্মতলা থেকে শুরু করে হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ, বাবুঘাট সর্বত্র দেখা যেত তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ঢল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ কলকাতায় এসে শহিদ দিবসের সমাবেশে অংশ নিতেন। কিন্তু ২০২৬ সালের ২১ জুলাই সেই বহু পরিচিত ছবিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং বিরোধী শিবিরের নতুন উদ্যম সব মিলিয়ে এবারের শহিদ দিবস একেবারেই অন্যরকম চেহারা নিয়েছে।
বদলে গেল রাজনৈতিক আবহ (Congress)
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এটাই ছিল প্রথম ২১ জুলাই। ফলে রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল এই দিনের উপর। কিন্তু সকাল থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, আগের মতো জনসমুদ্র বা উৎসবের আবহ আর নেই। একসময় হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে ভোর থেকেই হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের ভিড় দেখা যেত। বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেন ও বাসে করে আসা মানুষের ঢল সামলাতে প্রশাসনকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হতো। কিন্তু এবার সেই দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত। হাওড়া স্টেশন, ফেরিঘাট এবং ধর্মতলা সংলগ্ন এলাকাগুলিতে মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বজায় ছিল। শহরের যান চলাচলেও বড় কোনও চাপ দেখা যায়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধুমাত্র জনসমাগমের নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন (Congress)।
ভেঙে গেল একক শক্তি প্রদর্শনের ঐতিহ্য
এবারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো তৃণমূল কংগ্রেসের বিভক্ত অবস্থান। একসময় যে দল এককভাবে বিশাল সমাবেশ করত, সেই দল এখন দুই পৃথক শিবিরে বিভক্ত। ফলে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিও দুই ভাগে ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির উভয়েই পৃথকভাবে শহিদ দিবস পালন করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভাজনের প্রভাব শুধু মঞ্চেই নয়, সংগঠনের শক্তি এবং কর্মীদের মনোবলেও পড়েছে।
নজিরবিহীন রাজনৈতিক চিত্র (Congress)
এবারের কলকাতা দেখেছে এক বিরল দৃশ্য। একই দিনে একই শহরে তিনটি পৃথক ২১ জুলাই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনটি প্রধান কর্মসূচি ছিল, মেয়ো রোডে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত শিবিরের শহিদ দিবস। ক্যাথিড্রাল রোডে, বিড়লা তারামণ্ডলের পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শহিদ দিবস। শহিদ মিনার চত্বরে কংগ্রেসের পৃথক ২১ জুলাই কর্মসূচি। এই তিনটি সমাবেশ রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজন ও পরিবর্তিত সমীকরণকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

যেখানে তৃণমূলের ভিড় কম, সেখানে চাঙ্গা কংগ্রেস
এবারের ২১ জুলাইয়ের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলির একটি ছিল কংগ্রেসের সক্রিয় উপস্থিতি। সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে কংগ্রেস কর্মীরা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বর্ধমান স্টেশনে কংগ্রেস কর্মীদের উল্লেখযোগ্য জমায়েত দেখা যায়। কৃষ্ণনগর থেকে বাসভর্তি কর্মীরা কলকাতায় আসেন। শান্তিপুর থেকেও বহু কর্মী রাজধানীমুখী হন (Congress)। গত কয়েক বছরে কংগ্রেসের ২১ জুলাইকে ঘিরে এমন সক্রিয়তা খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যে কি বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?
আরও পড়ুন: Ritabrata vs Mamata: ক্ষমা করুন, আপনাদের আর প্রয়োজন নেই: ঋতব্রতদের দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত মমতার
ধর্মতলায় আর নেই আগের সেই উৎসবের আবহ
একসময় ২১ জুলাই মানেই ছিল ধর্মতলায় মানুষের ঢল। রাস্তার দু’ধারে দলীয় পতাকা, মাইক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কর্মীদের বিশ্রামের শিবির, পানীয় জল ও খাবারের ব্যবস্থা সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো। কিন্তু এবার সেই চেনা দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত। ধর্মতলার অধিকাংশ এলাকাতেই যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। দোকানপাটও অন্যান্য দিনের মতো খোলা ছিল। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও তেমন কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি।



