Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কল্যাণ দত্ত, পূর্ব বর্ধমান: লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Burdwan Protest) এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বুধবার পথে নামল পূর্ব বর্ধমান জেলা জাতীয় কংগ্রেস। জেলা কংগ্রেসের ডাকে বর্ধমান শহরের পারবীরহাটা মোড় থেকে আরজি ভবন পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে আরজি ভবনের সামনে পথ অবরোধে সামিল হন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা। প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচির জেরে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাময়িকভাবে যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিজেপির সঙ্গে বচসা (Burdwan Protest)
পথ অবরোধ চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন (Burdwan Protest) বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মী। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের স্বার্থে অবরোধ তুলে দেওয়ার দাবি জানাতেই কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের হস্তক্ষেপে অবশেষে অবরোধ উঠে গেলে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার চেষ্টা! (Burdwan Protest)
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেস এবং আইএনটিটিইউসি-র একাধিক নেতা-কর্মী। জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি গৌরব সমাদ্দার বলেন, “দিল্লিতে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাদের নেতা রাহুল গান্ধী এবং নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অমিত শাহের নেতৃত্বে এই গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি”। (Burdwan Protest)
তিনি আরও দাবি করেন, “যে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। অথচ তাঁদেরই গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার চেষ্টা করছে। আমরা অবিলম্বে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। তা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবে কংগ্রেস”।
আরও পড়ুন: Agnimitra Paul: ফুটপাত আটকে ব্যবসা নয়! সকালেই কড়া বার্তা পুরমন্ত্রীর
অন্যদিকে, এই ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর শোনা যায়। জেলা বিজেপি নেতা সুমিত দত্ত বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের আন্দোলন বা কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। তবে তার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে চলা উচিত। বুধবার কংগ্রেস যে সময়ে পথ অবরোধ করেছিল, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছিল না। ওই সময় বহু স্কুলে ছুটি এবং শুরু হওয়ার সময় অভিভাবকদের কাছ থেকে আমাদের কাছে ফোন আসে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা ভেবেই আমরা সেখানে গিয়ে রাস্তা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি’।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই কেন্দ্রীয় সরকার গ্রেফতারের পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের স্বার্থকে উপেক্ষা করে রাস্তা অবরোধ করে অযথা ভোগান্তি তৈরি করেছে কংগ্রেস। যদিও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


