Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: রাজ্য সরকারের আনা পঞ্চায়েত বিলের সংশোধনীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে (Mostafijur Rahaman)। এই প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিরোধিতা করে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধানদের হাত থেকে আর্থিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে সরকারি আধিকারিকদের হাতে সেই ক্ষমতা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী এবং এর ফলে গোটা পঞ্চায়েত ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা খর্ব করে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের পরিষেবার উপর। তাঁর মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হবে এবং উন্নয়নমূলক কাজের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

“একটি আঙুলে ঘা হলে পুরো হাত কেটে ফেলা হয় না”
পঞ্চায়েতে দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে রেখে গোটা ব্যবস্থার কাঠামো বদলে দেওয়ার বিরোধিতা করে মুস্তাফিজুর রহমান একটি উদাহরণ টেনে বলেন, “শরীরের কোনো একটি অঙ্গে সমস্যা তৈরি হলে কাউকে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলা হয় না। আমার হাতে দশটা আঙুল, একটি আঙুলে ঘা হলে গোটা হাত কব্জি থেকে কেটে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।” তাঁর বক্তব্য, যদি কোথাও দুর্নীতি হয়ে থাকে, তাহলে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু কয়েকজনের অপরাধের জন্য গোটা পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে শাস্তি দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
প্রধানদের ক্ষমতা কেড়ে নেবেন না (Mostafijur Rahaman)
মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে কোথাও আর্থিক দুর্নীতি হয়ে থাকলে সরকার অডিট করুক, তদন্ত কমিটি গঠন করুক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক। তাঁর প্রশ্ন, প্রায় চার থেকে সাড়ে চার হাজার পঞ্চায়েতের মধ্যে যদি কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়ে থাকে, তাহলে সেই নির্দিষ্ট পঞ্চায়েতগুলিকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। কিন্তু তার পরিবর্তে নির্বাচিত প্রধানদের আর্থিক ক্ষমতা কেড়ে নিলে কি দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে? তিনি আরও দাবি করেন, এত বড় আর্থিক দুর্নীতি শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। সরকারি আধিকারিকদের একাংশের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম সম্ভব নয় বলেও তাঁর মন্তব্য।
‘ভালো তৃণমূল’ হলে তদন্ত বন্ধ কেন? (Mostafijur Rahaman)
এই প্রসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগও তোলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর দাবি, যাঁরা আগে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ বিজেপিতে যোগ দিলেই তাঁদের বিরুদ্ধে আর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ বিরোধী শিবিরে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য রাখা হচ্ছে। তাঁর কথায়, যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার সত্যিই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক অবস্থান বদলানোর ভিত্তিতে তদন্তের ধরন পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়।
ভেঙে পড়েছে মনে হলে পুনর্নির্বাচন করুন
মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, সরকার যদি সত্যিই মনে করে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে, তাহলে গণতান্ত্রিক পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। তিনি বলেন, সরকার চাইলে অধ্যাদেশ জারি করে পুনরায় পঞ্চায়েত নির্বাচন করতে পারে। জনগণ যাঁদের নির্বাচিত করবেন, তাঁরাই আবার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবেন। নির্বাচিত বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
পুরসভার অবস্থাও সংকটজনক (Mostafijur Rahaman)
শুধু পঞ্চায়েত নয়, রাজ্যের বহু পুরসভাতেও কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর বক্তব্য, বহু পুরসভায় চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলররা নিয়মিত অফিসে যাচ্ছেন না। ফলে নিকাশি, আবর্জনা পরিষ্কার, নাগরিক পরিষেবাসহ একাধিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, যেহেতু সরকার ইতিমধ্যেই কয়েকটি পুরসভায় প্রশাসক (অ্যাডমিনিস্ট্রেটর) বসানোর নজির তৈরি করেছে, তাই যেখানে পুরসভা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সেখানে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগ করা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের পরিষেবা বন্ধ না হয়।
পুরসভার মধ্যে মৌলিক পার্থক্যের কথা তুলে ধরলেন
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট করেন, পঞ্চায়েত এবং পুরসভার সমস্যাকে একসঙ্গে দেখা ঠিক নয়। তাঁর মতে, পঞ্চায়েত একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক বোর্ড, যেখানে প্রধানের আর্থিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া ভবিষ্যতের স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থার উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, পুরসভার ক্ষেত্রে যেখানে ইতিমধ্যেই প্রশাসক বসানোর নজির রয়েছে, সেখানে পরিষেবা সচল রাখার স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধানদের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া এবং পুরসভায় প্রশাসক বসানো—এই দুটি বিষয় এক নয় বলেই তিনি মত প্রকাশ করেন।
দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন (Mostafijur Rahaman)
দিল্লিতে ছাত্রদের আন্দোলন এবং পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও সরব হন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ছাত্র-যুবদের উপর যে ধরনের লাঠিচার্জ ও আক্রমণ হয়েছে, তা কোনও সভ্য সরকারের আচরণ হতে পারে না। তাঁর মতে, পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হচ্ছে, ফলে তাঁদের আন্দোলন সম্পূর্ণ ন্যায্য। তিনি জানান, দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে কলকাতায় অনুষ্ঠিত মিছিলকে তিনি পূর্ণ সমর্থন করছেন এবং দেশের বিভিন্ন শহরে যে প্রতিবাদ হচ্ছে, তা স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া।
আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রসঙ্গ
সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের উত্তরে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের বিষয়েও মন্তব্য করেন মুস্তাফিজুর রহমান। যদিও এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে জানান, বিষয়টি বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী বিবেচিত হওয়া উচিত।



