Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা, আন্দোলনের নামে হিংসা, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, গুণ্ডা দমন আইন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলার তীব্র সমালোচনা করেন এবং একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন (Ritabrata Banerjee)।
‘এটা আন্দোলন নয়, পরিকল্পিত হুলিগানিজম’
সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোনো আন্দোলনের কৃতিত্ব নেওয়া যায়, কিন্তু আন্দোলনের আড়ালে যদি বিশৃঙ্খলা ও হিংসা ছড়ানো হয়, তার দায় তিনি নেবেন না। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। তাঁর ভাষায়, আন্দোলনের জন্য যে পতাকার লাঠি ব্যবহার করার কথা, সেই লাঠিই মারধরের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “হুলিগানিজম হয়েছে। এটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয়, সম্পূর্ণ অর্গানাইজড এবং প্রি-প্ল্যানড।”
শমীক লাহিড়ীর ভূমিকায় প্রশ্ন (Ritabrata Banerjee)
শমীক লাহিড়ীর আচরণ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন ঋতব্রত। তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকরা আক্রান্ত হওয়ার সময় শমীক লাহিড়ী নীরব ছিলেন এবং হাসতে হাসতেই সেখান থেকে চলে যান। ঋতব্রতের বক্তব্য, একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তিনি বলেন, যারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে সেখানে লুঠপাটের চেষ্টাও হয়েছে।
‘ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই’
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এরা কি সত্যিই ছাত্র? ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে?” নিজের ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, তিনি নিজেও একসময় এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাই ছাত্র আন্দোলনের চরিত্র সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা রয়েছে বলে দাবি করেন।
মাখনবাবুর মোবাইলই যথেষ্ট প্রমাণ’ (Ritabrata Banerjee)
ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্য কোনো অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, “মাখনবাবুর মোবাইলটাই এনাফ।” অর্থাৎ, মোবাইলে থাকা ভিডিও বা তথ্যই পুরো ঘটনার সত্য সামনে আনতে সক্ষম বলে তাঁর দাবি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা প্রসঙ্গে কী বললেন?
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার প্রসঙ্গে ঋতব্রত বলেন, এই দাবিই দীর্ঘদিন ধরে উঠছিল। এখন বিষয়টি সংসদে আলোচনার সুযোগ পাবে। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের এখানে তো আলোচনার সুযোগ নেই, কিন্তু সংসদে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।” যদিও তিনি এ বিষয়ে আর বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
গুণ্ডা দমন আইন নিয়েও মন্তব্য (Ritabrata Banerjee)
গুণ্ডা দমন আইন প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি, তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির উপর জোর দেন।
‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে অভিযোগ (Ritabrata Banerjee)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি নিয়েও সরব হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের একাংশের দিকেও আঙুল তোলেন। তিনি দাবি করেন, যেখানে প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন, সেখানে সমস্ত তথ্য-প্রমাণসহ বিষয়টি তুলে ধরা হবে। তবে তিনি ওই মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
কুণাল ঘোষের অভিযোগের জবাব
কুণাল ঘোষের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত বলেন, প্রত্যেকেরই নিজের বক্তব্য রাখার অধিকার রয়েছে। তাঁর মতে, ক্যাগ রিপোর্ট এবং দুর্নীতি নিয়ে যদি বিশেষ অধিবেশন (স্পেশাল সেশন) হয়, তাহলে সেখানে সবাই নিজেদের বক্তব্য খোলাখুলিভাবে তুলে ধরতে পারবেন।



