Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা (Md Salim)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম দাবি করেছেন, এটি ছাত্র-যুবদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সাফল্য। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে নিট (NEET) পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক, জাতীয় পরীক্ষার স্বচ্ছতা, আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।
‘অবশেষে শিক্ষামন্ত্রীকে যেতে হলো’ (Md Salim)
প্রতিক্রিয়ার শুরুতেই মহম্মদ সেলিম বলেন, “অবশেষে শিক্ষামন্ত্রীকে যেতে হলো।” তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠলেও কেন্দ্রীয় সরকার তা উপেক্ষা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এ বিষয়ে দীর্ঘ সময় নীরব ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেলিমের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র বিরোধী দল নয়, ছাত্র-যুব সমাজ এবং অভিভাবকদের একাংশও শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সেই উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং প্রতিবাদকে অস্বীকার করার পথ বেছে নিয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ।
নিট বিতর্ক ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা (Md Salim)
মহম্মদ সেলিমের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে নিট (NEET) পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র ব্যর্থতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে। তাঁর দাবি, এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়; বরং শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন।
আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ
মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, ছাত্র-যুবদের আন্দোলনকে দুর্বল করার জন্য নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তারের হুমকি এবং তাঁদের সমর্থকদের ওপরও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদকারীদের পাশে দাঁড়ানো স্বেচ্ছাসেবকদের বাড়িতেও পুলিশি তৎপরতা চালানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য থাকতে পারে।
‘আন্দোলনের জয় হয়েছে’ (Md Salim)
সেলিমের মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাত্র-যুবদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফল। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণ নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনাই প্রমাণ করেছে যে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ গণতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সরকারের ওপর জনমতের প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি (Md Salim)
শুধুমাত্র শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেই সমস্যা শেষ হবে না বলেও মন্তব্য করেন মহম্মদ সেলিম। তাঁর মতে, প্রয়োজন গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।তিনি দাবি করেন, জাতীয় স্তরের পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র কার্যপ্রণালী পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
‘শিক্ষাকে বাঁচানোর আন্দোলন চলবে’
মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আন্দোলনের শেষ নয়। তাঁর মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।



