Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ফের বড় কর্মসূচির ঘোষণা করল প্রদেশ কংগ্রেস (Congress)। ২১ জুলাইয়ের ঘটনাকে সামনে রেখে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ, কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলার দাবি, ছাত্র আন্দোলন এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬ কলকাতায় ‘লালবাজার চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে এই মিছিল শুরু হয়ে লালবাজারের উদ্দেশ্যে যাবে বলে জানানো হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, এটি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি, যেখানে পুলিশ কমিশনারের কাছে দাবি-সনদ পেশ করা হবে।

অভিযোগ আইন-শৃঙ্খলার অবনতির (Congress)
শুভঙ্কর সরকার তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কংগ্রেসের প্রত্যাশা ছিল রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেই অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকারের দায়িত্ব ছিল সব রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা। কিন্তু কংগ্রেসের অভিযোগ, বিরোধী দলের কর্মসূচির ক্ষেত্রেই বাধা সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছে (Congress)।
২১ জুলাই শহীদ তর্পণ ঘিরে হামলার অভিযোগ (Congress)
প্রদেশ কংগ্রেসের মূল অভিযোগ ২১ জুলাই শহীদ তর্পণ কর্মসূচিকে ঘিরে। শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলা থেকে কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা বাস ও ট্রেনে কলকাতায় শহীদ মিনারে আসছিলেন। সেই সময় বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। যাত্রীবাহী বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় কর্মীদের কলকাতায় পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনাসহ একাধিক জেলায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
আহত বহু কর্মী, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন (Congress)
কংগ্রেস সভাপতির দাবি, এই হামলায় বহু কর্মী আহত হন। কারও মাথা ফেটে যায়, কারও হাত-পা ভেঙে যায়, অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০ জুলাই রাত থেকেই এই ধরনের ঘটনা শুরু হলেও পুলিশকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে তিনি প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরে বলেন, আইন রক্ষাকারী সংস্থাগুলি যদি অভিযোগের পরেও ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
“কংগ্রেসকে ভয়? নাকি রাহুল গান্ধীকে?” (Congress)
নিজের বক্তব্যে শুভঙ্কর সরকার রাজনৈতিক প্রশ্নও তোলেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের শহীদ তর্পণ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। সেখানে অংশ নিতে আসা কর্মীদের উপর কেন হামলা হল? তাঁর প্রশ্ন, “কংগ্রেসকে ভয় পাচ্ছেন? নাকি রাহুল গান্ধীকে?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ছাত্র আন্দোলন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও রাহুল গান্ধীর ভূমিকার উল্লেখ বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ।
শুভঙ্কর সরকার দাবি করেন (Congress)
বহু বছর ধরে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তাঁর মতে, এই বিষয়গুলি জাতীয় স্তরে বড় আকারে সামনে এসেছে রাহুল গান্ধীর আন্দোলনের ফলে। তিনি বলেন, ছাত্রদের দাবির পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী আন্দোলন করায় দেশজুড়ে ছাত্রসমাজ আরও সংগঠিত হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলিও এই ইস্যুতে একজোট হয়েছে। এছাড়াও তিনি মিট (MEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস-এর বিষয়েও প্রতিবাদ জানানোর ঘোষণা করেন এবং শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছাত্র-যুব কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যে উঠে আসে ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেসের কর্মীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের প্রসঙ্গ। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বহু ছাত্র-যুব কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, কংগ্রেসের ছাত্র-যুব সংগঠন সেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল না।
কেন ‘লালবাজার চলো’? (Congress)
প্রথমে থানা ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে লালবাজার অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান শুভঙ্কর সরকার। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি পুলিশ কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তাদের কাছে জবাব চাইতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, পুলিশের ভূমিকা রাজনৈতিক নিরপেক্ষ হওয়া উচিত এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত।
৫ আগস্টের কর্মসূচির রূপরেখা (Congress)
প্রদেশ কংগ্রেস জানিয়েছে—
তারিখ: ৫ আগস্ট ২০২৬
জমায়েত: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে
সময়: দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে উপস্থিত থাকার আহ্বান
গন্তব্য: লালবাজার
উদ্দেশ্য: পুলিশ কমিশনারের কাছে দাবি-সনদ পেশ
কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যেই প্রতিবাদ জানানো হবে।
আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
কোন কোন দাবি তুলছে প্রদেশ কংগ্রেস?
এই কর্মসূচিতে কংগ্রেস মূলত কয়েকটি দাবিকে সামনে আনছে, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি। কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত। রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ। ছাত্র-যুব কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত। রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ প্রশাসনের নিশ্চয়তা।



