Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পলাশ নস্কর: নন্দীগ্রামকে ঘিরে ফের তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক জল্পনা (Ritabrata Banerjee)। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে সামনে এল চাঞ্চল্যকর মন্তব্য। শুক্রবার সকালে দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নন্দীগ্রামে প্রার্থী দেওয়ার পরও যদি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কেন্দ্র থেকে লড়াই করেন, তাহলে তাঁদের প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে।

ঋতব্রতের এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনে কোনও দলের প্রার্থী প্রত্যাহারের সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে আসায় প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি নির্বাচনের আগে তৈরি হতে চলেছে কোনও নতুন সমীকরণ?
মমতা নন্দীগ্রামে দাঁড়ালে কী হবে? (Ritabrata Banerjee)
ঋতব্রতের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নন্দীগ্রাম কেন্দ্র। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাঁরা যদি প্রথমে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন, সেক্ষেত্রে তাঁদের প্রার্থী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে শুধু প্রার্থী প্রত্যাহার নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা সরাসরি সমর্থন করবেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠে আসে। সেই প্রসঙ্গেই ঋতব্রতের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। কারণ, নন্দীগ্রাম শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এই কেন্দ্রের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে (Ritabrata Banerjee)।
নন্দীগ্রাম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? (Ritabrata Banerjee)
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় থেকেই এই এলাকা বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। পরবর্তীকালে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী লড়াই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। ফলে ফের যদি তিনি এই কেন্দ্রকে বেছে নেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই গোটা রাজ্যের নজর চলে আসবে নন্দীগ্রামের দিকে। এই পরিস্থিতিতে কোনও দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী প্রত্যাহারের সম্ভাবনার কথা সামনে আসা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং নির্বাচনী পরিস্থিতির উপর।
আখরুজ্জামানের পর ঋতব্রতের মন্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
আখরুজ্জামানের মন্তব্যের পর এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একই ধরনের বার্তা পরপর সামনে আসা নিছক ব্যক্তিগত মন্তব্য, নাকি এর পিছনে বৃহত্তর কোনও রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে, সেটাই এখন দেখার। নির্বাচনের আগে আসনভিত্তিক সমীকরণ, প্রার্থী নির্বাচন এবং সম্ভাব্য সমর্থনের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান দ্রুত বদলাতে পারে। নন্দীগ্রাম সেই অর্থে আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: Nabanna: মানা হচ্ছে না অগ্নি সুরক্ষা বিধি, কলকাতার ৯১৯ হোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধের নির্দেশ নবান্নের
উত্তর এখনই স্পষ্ট নয়
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য আপাতত নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যিই নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হন, তাহলে কি প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর হবে? আর প্রার্থী সরিয়ে নেওয়া হলে সেই সিদ্ধান্ত কি সরাসরি সমর্থনে পরিণত হবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনই স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ফের বাড়তে শুরু করেছে। আগামী দিনে দলীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই এই জল্পনার প্রকৃত ছবি সামনে আসবে।



