Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুমনা বেরা: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেই বদলে গেল সিঙ্গুর (Singur) জমি আন্দোলনের ইতিহাস জড়িয়ে থাকা অন্যতম বড় প্রতীক। মুছে ফেলা হলো জমি আন্দোলনের শহিদ তাপসী মালিকের নাম। সিঙ্গুরের যে কৃষি মান্ডিটি এতদিন ‘তাপসী মালিক কৃষক বাজার’ নামে পরিচিত ছিল, সেখানে নীল-সাদা বোর্ড উধাও করে টাঙানো হয়েছে লাল-সাদা নতুন বোর্ড। এখন তার নতুন নাম ‘সিঙ্গুর কৃষক বাজার’। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম দুঃখপ্রকাশ করেছেন শহিদ তাপসী মালিকের বাবা, আর তা নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি।
লাল-সাদা বোর্ডে শুধুই ‘সিঙ্গুর কৃষক বাজার’ (Singur)
২০১৪ সালে সিঙ্গুর কৃষি জমি আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী (Singur) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কৃষক বাজারের নামকরণ করেছিলেন আন্দোলনকারী শহিদ তাপসী মালিকের নামে। এতদিন নীল-সাদা বোর্ডে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘সিঙ্গুর তাপসী মালিক কৃষক বাজার’। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরেই পাল্টে গেল সেই ছবি। পুরোনো বোর্ড সরিয়ে নতুন লাল-সাদা বোর্ডে এখন লেখা শুধুই ‘সিঙ্গুর কৃষক বাজার’। শহিদ মেয়ের নাম মুছে দেওয়ায় চরম আঘাত পেয়েছেন তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিক। এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, যে সময় এই নাম রাখা হয়েছিল তখন শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী তাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন উল্লেখ করে মনোরঞ্জনবাবু জানান, তিনি নিজে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আর্জি জানাবেন, কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
আরও পড়ুন: E20 Petrol: ইথানল কী ও কেন?
মনোরঞ্জন মালিক বলেন, ‘এই নামটা বদল করা ঠিক হয়নি (Singur) । যে সময় এই বোর্ড লাগানো হয়েছিল সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী ছিলেন। শুভেন্দু বাবু আমাকে অনেক ভালোবাসতো। আমি ওনার কাছে এটা কেন করা হল তার জন্য আর্জি জানাব। কারণ এটা করা ঠিক হয় নি। মনে আঘাত তো লাগবেই। এটা মুছে দিল, এটাই আমার কাছে দুঃখের।’

বিজেপি-তৃণমূলের তরজা তুঙ্গে (Singur)
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি, রাজনীতি তার জায়গায়, কিন্তু শহিদদের সম্মান এভাবে ক্ষুণ্ণ করা মেনে নেওয়া যায় না। সিঙ্গুরবাসী এর উপযুক্ত জবাব দেবে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা অধিকারী বলেন, ‘সিঙ্গুর আন্দোলনের শহিদ তাপসী মালিকের নামে সিঙ্গুরে একটি কিষান মান্ডি ছিল। বিজেপি সরকার আসার পর সেই শহীদের নাম সরিয়ে দেওয়া হল। আমরা বলি রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, শহিদ শহিদের জায়গায়। তাপসী মালিকের বাবা এখনও বেঁচে আছেন। তিনি বিষয়টায় কষ্ট পেয়েছেন, তিনি মর্মাহত। সিঙ্গুরবাসী তথা হুগলি বাসী এর সঠিক জবাব দেবেন গণতন্ত্রের মাধ্যমে।’
আরও পড়ুন: Assam Flood: ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের পথে আসামের বন্যা পরিস্থিতি
বিজেপির যুক্তি, সিঙ্গুর আন্দোলনের ফলে একটি রাজনৈতিক দল লাভবান হলেও সাধারণ মানুষ গরীবই রয়ে গিয়েছে। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষই এই নাম পরিবর্তন মেনে নিয়েছে। বিজেপি বিধায়ক অরূপ কুমার দাস বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে। আগামী দিনে আরও অনেক কিছু পরিবর্তন হবে। যেটা হবে সেটা সমাজকে নিয়ে, মানুষকে নিয়ে। মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য করা হবে। সিঙ্গুরের কোন মানুষ এই নাম পরিবর্তন নিয়ে কোন প্রতিবাদ করেনি। সিঙ্গুর আন্দোলনের ফলে একটি রাজনৈতিক দল তার ক্ষমতা লাভ করেছিল, তারা বিত্তবান হয়েছে। সিঙ্গুরের মানুষ গরীব হয়েছে। সেই জন্যই তো সিঙ্গুরের মানুষ এই পরিবর্তন করেছে।
রাজপ্রাসাদ কিংবা রাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদলে কি তবে ইতিহাস ও শহিদদের অবদান এভাবেই আড়ালে চলে যাবে? নাকি সিঙ্গুরের বুকে তাপসী মালিকের নাম মোছা নিয়ে আন্দোলন গড়াবে আরও বহুদূর, সেটাই এখন দেখার।


