Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-যোগে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে সামনে এল নতুন তথ্য (Howrah)। এবার হাওড়ার পিলখানার ৭ নম্বর আলম মিস্ত্রি লেনে হামিমের ভাড়া নেওয়া কারখানার সন্ধান মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সেখানে জামাকাপড়ের ট্যাগ তৈরির কাজ চলত। তবে এই ব্যবসার আড়ালে অন্য কোনও বেআইনি বা জঙ্গি কার্যকলাপ চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে (Howrah)
হামিম মণ্ডল ও তাঁর বাবা মইনুদ্দিন (বা মনিরউদ্দিন) মণ্ডল প্রায় ১১ মাসের চুক্তিতে দুটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। একটি ঘরের মাসিক ভাড়া ছিল ৭ হাজার টাকা এবং অন্যটির ৪ হাজার টাকা—মোট ১১ হাজার টাকা। একটি ঘরে জামার ট্যাগ তৈরির মেশিন বসানো ছিল, আর অন্য ঘরে কম্পিউটারের মাধ্যমে অফিসের কাজকর্ম পরিচালিত হত। ওই কারখানায় হামিম ও তাঁর বাবার পাশাপাশি আরও তিনজন কর্মী কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
কারখানাটি সম্পূর্ণ বন্ধ (Howrah)
তবে গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরে কারখানাটি সম্পূর্ণ বন্ধ। এলাকাবাসীর দাবি, হামিমকে শেষবার প্রায় দু’মাস আগে ওই কারখানায় দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে, বাড়ির মালিক মহম্মদ আলির সঙ্গে হামিমের বাবার শেষবার কথা হয় গত রবিবার। এরপর থেকেই তিনিও আর এলাকায় দেখা দেননি।
যোগাযোগের সূত্র মিলেছে (Howrah)
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই পূর্ব বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হামিম মণ্ডলকে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তার সঙ্গে কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি সম্পর্কে নজরদারি চালানোর অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে এবং এ নিয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

হাওড়ার পিলখানায় থাকতেন (Howrah)
গ্রেপ্তারির পর প্রথমদিকে জানা গিয়েছিল হামিম হাওড়ার পিলখানায় থাকতেন। কিন্তু ঠিক কোন এলাকায় তাঁর ঘাঁটি ছিল, তা স্পষ্ট ছিল না। এমনকি এলাকার বহু শ্রমজীবী মানুষও প্রথমে তাঁকে চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছিলেন। পরে রবিবার সকালে তদন্তকারীরা আলম মিস্ত্রি লেনের একটি বহুতলে তাঁর ভাড়া নেওয়া ঘরের সন্ধান পান। ওই বহুতলেই একটি গেস্ট হাউস এবং একাধিক আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য (Howrah)
তাঁরা জানতেন সেখানে একটি ছোট ব্যবসা পরিচালিত হয়। জামার ট্যাগ তৈরির কাজ ছাড়া অন্য কোনও কার্যকলাপ সম্পর্কে তাঁদের ধারণা ছিল না। হামিমের জঙ্গি-যোগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কার্যত হতবাক হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, হামিমের বাবার সঙ্গে যাতায়াতের পথে মাঝে মধ্যে কথা হলেও হামিমের সঙ্গে তাঁর কখনও আলাপ হয়নি। তাঁর দাবি, গত প্রায় দশ দিন ধরে হামিমের বাবাকেও এলাকায় দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: Kolkata Metro: CMS পরীক্ষার্থীদের জন্য রবিবার ভোর থেকেই বিশেষ মেট্রো পরিষেবা
বৈধ ব্যবসা ছিল
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, জামার ট্যাগ তৈরির কারখানাটি শুধুই একটি বৈধ ব্যবসা ছিল, নাকি সেটিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কোনও গোপন কার্যকলাপ পরিচালিত হত। এছাড়াও, হামিমের সঙ্গে যিনি বাবা পরিচয়ে থাকতেন, তিনি সত্যিই তাঁর বাবা কি না, নাকি জঙ্গি চক্রের অন্য কোনও সদস্য—সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।



