Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার মানিকতলায় একটি বিপজ্জনক ও জরাজীর্ণ বাড়িকে কেন্দ্র করে ফের উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে (Maniktala)। গত সপ্তাহে বাড়িটির একাংশ আচমকাই ভেঙে পড়ার পর পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সোমবার ফের বাড়িটির অবশিষ্ট বিপজ্জনক অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ভবিষ্যতে কোনও বড় দুর্ঘটনা এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নারকেলডাঙা নর্থ রোডে আতঙ্কের পরিবেশ (Maniktala)
ঘটনাস্থল মানিকতলার ১১৭, নারকেলডাঙা নর্থ রোড। বহু বছরের পুরনো এই বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই জীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই বাড়ির একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। যদিও ওই ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির খবর মেলেনি, তবে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরই কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আধিকারিকরা বাড়িটি পরিদর্শন করেন। তাঁদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বাড়িটির বাকি অংশও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হয়।
পুরসভার উদ্যোগে চলছে ভাঙার কাজ (Maniktala)
বাড়ির বিপজ্জনক অংশ চিহ্নিত করার পর প্রথম দফায় ভেঙে ফেলা হয় ধসে পড়া অংশের আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বাড়িটির অবশিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলার কাজ। ভারি যন্ত্রপাতি ও পুরসভার কর্মীদের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। যাতে ভাঙার সময় কোনও ইট, কংক্রিট বা অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ আশপাশে ছিটকে গিয়ে দুর্ঘটনা না ঘটায়, সেজন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া (Maniktala)
বাড়িটিতে এখনও কয়েকজন ভাড়াটিয়া বসবাস করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ধাপে ধাপে বাড়ি খালি করার কাজও চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বহুদিন ধরেই বাড়িটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। কিন্তু এবার ধস নামার পর পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে বিজেপি নেত্রী অর্চনা মজুমদার (Maniktala)
বাড়ি ভাঙার কাজ চলাকালীন ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিজেপি নেত্রী অর্চনা মজুমদার। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি পুরসভার কর্মীরাও ঘটনাস্থলে থেকে ভাঙার কাজ তদারকি করছেন।
আরও পড়ুন: Agnimitra Paul: ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় ইট-বালি রাখলেই জরিমানা! কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার
নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব
প্রশাসনের বক্তব্য, পুরনো ও বিপজ্জনক বাড়িগুলি সময়মতো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বর্ষাকালে এমন জরাজীর্ণ ভবনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই ভবিষ্যতে কোনও দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা এড়াতেই এই বাড়ির বিপজ্জনক অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



