Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, ট্র্যাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপদ যাতায়াত সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সোমবার, ৩ অগস্ট থেকে শুরু হল ‘পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬’। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহণ দফতরের উদ্যোগে এবং কলকাতা পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের যৌথ ব্যবস্থাপনায় শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে ৯ অগস্ট পর্যন্ত। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও শহরে সপ্তাহজুড়ে একাধিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ শিবির এবং প্রচার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে (Road Safety)।

তিলজলা ট্র্যাফিক গার্ডের বিশেষ উদ্যোগ (Road Safety)
‘পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ’-এর সূচনায় কলকাতার তিলজলা ট্র্যাফিক গার্ডের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় একটি বিশেষ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান। সেখানে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। প্রশিক্ষণে উপস্থিত ট্র্যাফিক আধিকারিকরা চালকদের ট্র্যাফিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব, সড়কে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর প্রয়োজনীয়তা এবং দুর্ঘটনা এড়ানোর বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন। বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয় অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানো এবং ট্র্যাফিক সিগন্যাল অমান্য করার মতো বিপজ্জনক অভ্যাস থেকে বিরত থাকার উপর।
সিপিআর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাণ বাঁচানোর বার্তা (Road Safety)
এ বছরের কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সিপিআর (Cardiopulmonary Resuscitation)-এর উপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। সেই সময় সঠিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারলে বহু ক্ষেত্রেই আহত ব্যক্তির প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

এই বিষয়টি মাথায় রেখেই চালকদের শেখানো হয় কীভাবে দুর্ঘটনাস্থলে আহত ব্যক্তিকে নিরাপদ অবস্থায় রাখতে হবে, কীভাবে সিপিআর দিতে হবে এবং জরুরি পরিষেবা পৌঁছনোর আগে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। প্রশিক্ষকরা বাস্তব পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরেন।
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে জোরালো প্রচার
সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ ছিল দুটি ট্যাবলো। একটি ট্যাবলোতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরা হয়, অন্যটিতে সড়ক দুর্ঘটনার বিভীষিকাময় চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। ট্র্যাফিক গার্ডের এক আধিকারিক জানান, এই ট্যাবলোগুলি আগামী কয়েক দিন কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও মোড়ে ঘুরবে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং গাড়িচালকদের মধ্যে ‘ড্রিঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভ’-এর বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। পুলিশের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধুমাত্র জরিমানা বা শাস্তির উপর নির্ভর না করে সচেতনতার মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যজুড়ে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি (Road Safety)
‘পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ’-এর অংশ হিসেবে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আয়োজন করা হবে একাধিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান। তার মধ্যে রয়েছে, স্কুল ও কলেজে পথ নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা সভা। ট্র্যাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা শিবির। পথনাটিকা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচার। মোটরবাইক ও গাড়িচালকদের জন্য নিরাপদ ড্রাইভিং কর্মশালা। হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে প্রচার অভিযান। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ। প্রশাসনের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্র্যাফিক নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা আরও বাড়বে।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro: CMS পরীক্ষার্থীদের জন্য রবিবার ভোর থেকেই বিশেষ মেট্রো পরিষেবা
‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ থেকে ‘পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ’
উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের সরকারের আমলে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রচার কর্মসূচি পরিচালিত হত ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ প্রকল্পের অধীনে। সরকার পরিবর্তনের পর সেই কর্মসূচির পরিবর্তে এখন ‘পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ’-এর মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও নতুন কর্মসূচির জন্য এখনও আলাদা কোনও সরকারি ট্যাগলাইন ঘোষণা করা হয়নি, তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে একটি বার্তায় লিখেছেন, “আমাদের অঙ্গীকার নিরাপদ রাস্তা, নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ।”

অভিযান ও উদ্যোগ (Road Safety)
রাজ্যে ট্রাফিক সেফটি উইক পালন করা হচ্ছে। এই উপলক্ষে স্কুল পড়ুয়াদের সাথে আলোচনা, সচেতনতা কর্মসূচি, প্রচারপত্র (লিফলেট) বিলি, বাইক র্যালি ও ট্যাবলোর আয়োজন করা হয়েছে।
সচেতনতার গুরুত্ব (Road Safety)
ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা সবার সুরক্ষার জন্যই অত্যন্ত জরুরি। অন্য কেউ নিয়ম ভাঙছে বলে নিজেকেও নিয়ম ভাঙতে হবে—এই মানসিকতা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রচার পদ্ধতি (Road Safety)
মাইকিং, লিপলেট বিতরণ, স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে মিথস্ক্রিয়া এবং সচেতনতামূলক র্যালির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ ও অবকাঠামো উন্নয়ন বায়ো-টয়লেট ব্যবস্থা:* ট্রাফিক পুলিশ কর্মী এবং মহিলা পুলিশদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ৩২টি বায়ো-টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে।
গার্ডরেল ও কিয়স্কের রঙ পরিবর্তন (Road Safety)
গার্ডরেল ও কিয়স্কের নতুন হলুদ (Yellow) রঙ সম্পর্কে তিনি জানান, এটি একটি স্ট্যান্ডার্ড সেফটি রঙ , যা দৃশ্যমানতা ও সুরক্ষার দিক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে মান্য। পূর্বের নীল-সাদা রঙের পরিবর্তে এখন নিয়ম মেনে হলুদ রঙের ব্যবহারের দিকে যাওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা প্রশাসনের নিরাপত্তা (Road Safety)
ভিআইপি ও জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা সম্পর্কিত প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সমস্ত বিষয় ডাইরেক্টরেট অফ সিকিউরিটি (Directorate of Security)-র সাথে আলোচনা করে এবং তাদের নির্দেশ ও ইনপুট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: Agnimitra Paul: ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় ইট-বালি রাখলেই জরিমানা! কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার
জঙ্গি দমন ও STF-এর সাথে সমন্বয়
সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টি-টেররিজম বা সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ (West Bengal STF)-এর সাথে তারা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান (Intelligence Sharing) করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।



