Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেবযানী সরকার: কলকাতার কালীঘাটের বাসভবন থেকে এক দীর্ঘ ভার্চুয়াল বার্তায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সাংবিধানিক এবং সামাজিক ইস্যুতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে, বিরোধীদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে (Mamata Banerjee)।
একইসঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সম্মান রক্ষার প্রশ্নে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি যুবসমাজ, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের আহ্বান জানান। এছাড়াও কর্মসংস্থান, সরকারি প্রকল্প, মহিলা কল্যাণ, প্রশাসনিক ভূমিকা, আশা কর্মী, সাফাইকর্মী এবং বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি নিয়েও বিস্তৃত বক্তব্য রাখেন।
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ (Mamata Banerjee)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ বর্তমানে একপেশেভাবে সংবাদ পরিবেশন করছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও ক্ষোভ বা অভিমান নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করছে। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকলেই তিনি সামাজিক মাধ্যমে লাইভ বার্তার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছন। প্রতিদিন লাইভে আসা সম্ভবও নয় এবং তা উচিতও নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধার অভিযোগ (Mamata Banerjee)
সবচেয়ে বড় অভিযোগ হিসেবে মমতা বলেন, তাঁকে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে রাস্তায় নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। সভা-মিছিলের অনুমতি পাওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ভারতের সংবিধানের ১৪, ১৯ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, তা লঙ্ঘিত হচ্ছে। অন্য রাজনৈতিক দল অনুমতি পেলেও তাঁদের দলকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‘বিরোধীদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে’
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মামলার অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। বহু মানুষ জানেনই না তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী। পঞ্চায়েত, পুরসভা ও জেলা পরিষদ জোর করে দখল করা হচ্ছে। ডিলিমিটেশন নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হচ্ছে না। জনগণনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তিনি জানান, এসব বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও এখনও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তাঁর দাবি।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে তীব্র আবেগ (Mamata Banerjee)
নিজের বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সম্মান রক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, নেতাজিকে অপমান করা মানে শুধু বাংলাকে নয়, গোটা ভারতবর্ষকে অপমান করা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির কিছু নেতা নেতাজি সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা হচ্ছে। নেতাজির উত্তরাধিকার রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আজাদ হিন্দ ফৌজ, “জয় হিন্দ” স্লোগান।
আরও পড়ুন: Adhir Ranjan Chowdhury: ‘মানুষকে না বুঝিয়েই ইথানল চাপিয়ে দিচ্ছে সরকার’, বিস্ফোরক অভিযোগ অধীরের
‘যত আটকাবেন, তত শক্তি নিয়ে ফিরব’
বক্তব্যের শেষাংশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁকে যত বাধা দেওয়া হবে, তিনি তত বেশি শক্তি নিয়ে মানুষের কাছে ফিরে আসবেন। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতা নয়, মানুষের স্বার্থই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। শান্তি, সম্প্রীতি, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐক্যের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন। শেষে তিনি “জয় হিন্দ”, “বন্দে মাতরম”, “জয় বাংলা” এবং “জয় নেতাজি” ধ্বনি দিয়ে তাঁর ভার্চুয়াল বার্তা শেষ করেন।



