Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল:
মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুর রূপ, দুঃখ হয় হে দুঃখের কূপ,
তোমা হতে যবে হইয়ে বিমুখ আপনার পানে চাই…
বিশ্ববরেণ্য কবি, বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের আজ (22 se Shraban) মৃত্যুবার্ষিকী। আজ ২২ শ্রাবণ। মৃত্যুর আগেই কবি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন মৃত্যুকে। তাই তো তার রচিত গানে কবিতায় তিনি বারংবার বুঝিয়ে দিয়েছেন, মানুষ যখন নিজের সংকীর্ণ ‘আমি’-র মধ্যে আটকে যায় এবং পরম সত্তার সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক হারিয়ে ফেলে, তখন মৃত্যু ও দুঃখ আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। কিন্তু ঈশ্বরের দিকে ফিরে তাকালে সেই দুঃখ ও মৃত্যুর মধ্যেও মুক্তি ও শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
কবির জীবনের শেষ অধ্যায় (22 se Shraban)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের শেষ অধ্যায় জুড়ে ছিল (22 se Shraban) অসুস্থতা, চিকিৎসা এবং মৃত্যুকে ঘিরে এক গভীর দার্শনিক উপলব্ধি। ১৯৩৭ সালে কিডনির সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ১৯৪০ সালের শেষ দিকে প্রস্টেটের সমস্যা ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। হোমিওপ্যাথি, অ্যালোপ্যাথি ও অন্যান্য চিকিৎসাতেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছিল না। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও শুরুতে তাতে প্রবল আপত্তি ছিল কবির।
অস্ত্রোপচারে সম্মতি (22 se Shraban)
শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের অনুরোধে অস্ত্রোপচারে (22 se Shraban) সম্মতি দেন তিনি। ১৯৪১ সালের ২৫ জুলাই শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন রবীন্দ্রনাথ। সেই বিদায়ের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। আশ্রমিকেরা গান গেয়ে তাঁকে বিদায় জানান। উদয়ন থেকে গাড়িতে করে বেরোনোর সময় শান্তিনিকেতনের পরিচিত গাছপালা, পথঘাট ও আশ্রমের মানুষকে দেখতে দেখতে কবির চোখে জল নেমে এসেছিল। যেন তাঁর অন্তর উপলব্ধি করেছিল, এই যাত্রা আর ফিরে আসার নয়।
আরও পড়ুন: Anubhav Anushkaa Engaged: বিয়ের সানাই বাজল বলে! বাগদান সারলেন অনুভব-অনুষ্কা
জোড়াসাঁকোয় পৌঁছে ৩০ জুলাই তাঁর অস্ত্রোপচার (22 se Shraban) হয়। অপারেশনের আগে পর্যন্তও তিনি কবিতা রচনা করেছেন এবং রানী চন্দকে দিয়ে তা লিখিয়েছেন। অস্ত্রোপচারের পর অবশ্য তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আর সুস্থ হয়ে ওঠেননি তিনি।
প্রয়াত হন বিশ্বকবি
১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট, ২২ শ্রাবণ, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্বকবি। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে বাংলা। বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তাঁর শেষযাত্রা।
তাঁর শারীরিক প্রস্থান ঘটলেও সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও চিন্তার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ আজও বাঙালির জীবনে সমানভাবে জীবন্ত। ২২ শ্রাবণ তাই শুধু প্রয়াণের দিন নয়, তাঁর অমর সৃষ্টিকে স্মরণ করারও দিন।



