Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ম্যাচ গড়াপেটা ও ফিক্সিং চক্রে নাম জড়িয়ে দু’বছর নির্বাসিত থাকার কালো অধ্যায় রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK)। সেই কালো অতীত কাটিয়ে ওঠার পর আবারও গুরুতর ফিক্সিংয়ের অভিযোগে বিদ্ধ মহেন্দ্র সিং ধোনির ফ্রাঞ্চাইজি। একটি সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থার সূত্রে এক প্রাক্তন রনজি খেলোয়াড়ের ওপর চালানো স্টিং অপারেশনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ, ম্যাচের আগেই চেন্নাইয়ের প্রথম একাদশের অত্যন্ত গোপন তথ্য চলে যেত আন্তর্জাতিক ফিক্সিং চক্রের হাতে, যার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হতো।
স্টিং অপারেশনে ফাঁস গোপন তথ্য (CSK)
সংবাদসংস্থার এক সাংবাদিক নিজেকে জুয়াড়ি পরিচয় দিয়ে নাগাল্যান্ডের প্রাক্তন রনজি ক্রিকেটার রচিত ভাটিয়ার ওপর একটি স্টিং অপারেশন চালান। সেই কথোপকথনে রচিত দাবি করেন, টসের বহু আগেই সিএসকের ম্যাচ ডে একাদশের তালিকা তাঁর হাতে চলে আসত। এই তালিকা তিনি ‘স্ন্যাপচ্যাট’ অ্যাপের মাধ্যমে লন্ডনে থাকা আন্তর্জাতিক বাজিকরদের পাঠাতেন। প্রতিটি দলীয় তালিকার বিনিময়ে ৬০ লক্ষ টাকা দর হাঁকা হতো বলে তিনি জানান। রচিত আরও স্বীকার করেছেন যে, ২০২৫ সালের আইপিএলে এভাবে অন্তত পাঁচটি ম্যাচের প্রথম একাদশের তথ্য তিনি সফলভাবে বিক্রি করেছেন।
দিল্লির প্রিমিয়ার লিগে গড়াপেটা চক্র (CSK)
কথোপকথনে উঠে এসেছে যে, ২০২৬ আইপিএলের জন্য ম্যাচপিছু ১ কোটি টাকা দর নির্ধারণ করেছিলেন রচিত। তবে সিএসকে স্কোয়াডে থাকা তাঁর মূল ‘চর’ বা তথ্যদাতা আইপিএলে মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীকালে সেই ক্রিকেটার দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ পেলে সেখানে অবাধে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং চালানো হয় বলে অভিযোগ। স্রেফ একাদশের তালিকা নয়, ম্যাচের সময় নির্দিষ্ট ওভারে কত রান হবে, মন্থর ব্যাটিং বা রান আউট হওয়া—এই ধরনের অন্তত ৯০ শতাংশ ঘটনা রচিতের পরিকল্পনা অনুযায়ীই হতো বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: IFA Sheild Fixture: আইএফএ শিল্ডের সূচিতে পরিবর্তন, বাতিল ম্যাচ, কবে নামছে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল?
দিল্লি ক্রিকেট সংস্থার প্রতিক্রিয়া (CSK)
অভিযোগের আঙুল উঠেছে বংশ বেদী নামে এক তরুণ ক্রিকেটারের দিকে (CSK)। সিএসকে স্কোয়াডের অংশ হলেও চোটের কারণে ২০২৬ আইপিএলে খেলতে পারেননি, তবে দিল্লির লিগে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই বিস্ফোরক দাবি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে। দিল্লির ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন দ্রুত বিবৃতি জারি করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে এবং বিসিসিআইয়ের অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের সাহায্য চেয়েছে। তবে ক্রিকেট কর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এগুলি আপাতত প্রাথমিক অভিযোগ এবং এখনও পর্যন্ত কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি। তাসত্ত্বেও অতীতে সিএসকে-র বিতর্কিত ইতিহাসের কারণে এই নতুন স্টিং অপারেশন ভারতীয় ক্রিকেটকে ফের বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।



