Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘তোর্ষা একটি নদীর নাম’ ছবির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং একাধিক পুরস্কার প্রাপ্তির পর পরিচালক কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহী এবার দর্শকদের সামনে হাজির করতে চলেছেন তাঁর নতুন দুই চলচ্চিত্র ‘বিশু কুমোরের ঘোড়া’ এবং ‘অভিশপ্ত আমলাশোল এই মৃত্যু উপত্যকাই আমার দেশ’। দুটি ছবির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে মাটি, মানুষ, শিল্প, ইতিহাস এবং প্রান্তিক জীবনের না-বলা কথাগুলি (Bengali Film)।

মাটির ঘোড়ায় শিল্পীর স্বপ্ন (Bengali Film)
মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘বিশু কুমোরের ঘোড়া’-র পটভূমি বাঁকুড়ার লাল মাটি। ভারতীয় কুটিরশিল্পের অন্যতম প্রতীক মাটির ঘোড়ার হাজার বছরের ইতিহাসকে আশ্রয় করে তৈরি হয়েছে ছবির গল্প। ১৯৬৯ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত মৃৎশিল্পী রাসবিহারী কুম্ভকারের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিচালক তুলে ধরেছেন এক শিল্পীর সৃজনশীলতা, স্বপ্ন, যন্ত্রণা এবং উন্মাদনার কাহিনি। বিশুর চরিত্রে সুপ্রভাত দাস, মালতীর ভূমিকায় শতাক্ষী নন্দী এবং বিদেশ পাত্রের চরিত্রে বিশ্বনাথ বসু রয়েছেন।

সম্পর্ক, অভাব আর শিল্পের দ্বন্দ্ব (Bengali Film)
মালতী চরিত্রটি ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। স্বামীর শিল্পীসত্তাকে এগিয়ে দেওয়ার স্বপ্নের পাশাপাশি সংসারের অভাব ও বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাকে। অন্যদিকে বিশুর বিভ্রমের মধ্যে বাবার সঙ্গে তার শিল্পীসত্তার সংঘাত ও অপূর্ণতার কথোপকথন গল্পকে আরও গভীর করে। বিশুর বাবার চরিত্রে রয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য। মাটির ঘোড়ায় সত্যিই প্রাণ দেওয়ার স্বপ্ন বিশু পূরণ করতে পারে কি না, সেই প্রশ্নই ছবির অন্যতম আকর্ষণ।
এবার আমলাশোলের ক্ষতচিহ্ন (Bengali Film)
পরিচালকের তৃতীয় ছবি ‘অভিশপ্ত আমলাশোল এই মৃত্যু উপত্যকাই আমার দেশ’-এর শুটিং চলছে কলকাতা ও আমলাশোলে। ১৯৯২, ২০০৩ ও ২০২৫ তিন সময়পর্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবিতে মাওবাদী-পুলিশ সংঘর্ষের মাঝে আটকে পড়া আদিবাসী মানুষের জীবন উঠে আসবে। সাঁওতাল, কোল, মুন্ডা-সহ বিভিন্ন জনজাতির বাস্তবতা এবং একসময়ের খাদ্যসংকটের নির্মম ছবি ফুটে উঠবে। বিরসা মুন্ডার চরিত্রে আবারও দেখা যাবে সুপ্রভাত দাসকে। শক্তিশালী পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় বিশ্বনাথ বসু।

আরও পড়ুন: Avika Gor: অসুস্থ শরীরেও কাজ থামাননি, হাসপাতালে ‘বালিকা বধূ’ খ্যাত অভিকা
বড় পর্দায় মাটির মানুষের গল্প
‘বিশু কুমোরের ঘোড়া’ ও ‘অভিশপ্ত আমলাশোল’ দুই ছবিতেই শহুরে জীবনের বাইরে প্রকৃতি, মাটি এবং প্রান্তিক মানুষের অস্তিত্বকে গুরুত্ব দিয়েছেন কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহী। প্রথম ছবি ঘুরবে দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্র উৎসবে, পরবর্তীতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ‘অভিশপ্ত আমলাশোল’ এখনও শুটিংয়ের পর্যায়ে। দুই ছবির মধ্য দিয়েই শিল্প ও বিনোদনের পাশাপাশি দর্শককে নতুন করে ভাবানোর চেষ্টা করেছেন পরিচালক। এখন অপেক্ষা, এই মাটির গন্ধমাখা গল্পগুলি বড় পর্দায় কতটা সাড়া জাগায়।



