Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতির পটভূমিতে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একটি ঐতিহাসিক সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে(Middle East Pact)। মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে ন্যাটোর (NATO) অনুচ্ছেদের মতো শর্ত যুক্ত করা হয়েছে যেখানে জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে বাকি দুই দেশের ওপর হামলা বলে গণ্য করা হবে।
চুক্তির প্রেক্ষাপট: কেন এখন? (Middle East Pact)
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি ছিল মার্কিন সামরিক শক্তি। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত নিরসনে এবং ইরান ও তার মিত্র হুতিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ পুরোপুরি ঠেকাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা রিয়াদকে একক মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প নিরাপত্তার কথা ভাবতে বাধ্য করেছে।
জোটের মূল শক্তি হল তিন দেশের পরিপূরক সক্ষমতা
সৌদি আরব: বিপুল আর্থিক সম্পদ ও জ্বালানি ক্ষমতা, কিন্তু অভ্যন্তরীণ সামরিক শিল্পে প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে।
তুরস্ক: উন্নত প্রযুক্তি ও শক্তিশালী সামরিক উৎপাদন ক্ষমতা, যার জন্য প্রয়োজন আর্থিক বিনিয়োগ ও বড় বাজার।
পাকিস্তান: পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা (Nuclear Deterrence), বিশাল জনবল ও সামরিক অভিজ্ঞতা, কিন্তু প্রয়োজন আর্থিক ও শিল্প সহযোগিতা।
ইরান ও ইসরায়েলের প্রতি বার্তা (Middle East Pact)
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান বা তুরস্ক সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জড়াবে না; বরং তারা মূলত মধ্যস্থতাকারী ও স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করবে। তবে এই জোট দুটি স্পষ্ট বার্তা দেয়:
১. ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্য রোধে রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করা।
২. মার্কিন পরাশক্তির আড়ালে ইসরায়েলের আধিপত্য বিস্তারকে সংকুচিত করা এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা।
আরও পড়ুন: UP Tindar Blackmail: টিন্ডার ফ্রেন্ডশিপ থেকে ৬ কোটির ব্ল্যাকমেইল: উত্তরপ্রদেশের চাঞ্চল্যকর কাণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে রিয়াদ এখন বহুমাত্রিক নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলছে(Middle East Pact)। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের বিকল্প হিসেবে এই তিন শক্তিশালী সুন্নি প্রধান দেশের একজোটে আসা অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছে।



