Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কালিতলা, বিষ্ণুপুর এবং ভবানীপুর থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ হাইকোর্টের (Abhishek Banerjee)। ‘রাজ্যে যদি রাজনৈতিক পালা বদল না হতো, তাহলে কি আপনারা এই অভিযোগ করতে পারতেন? তাই বাস্তবকে অস্বীকার করা উচিৎ নয়। আপনারা ৪ মে-এর আগে কাস্টোডিয়াল জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পারতেন। এত দেরি করে এফআইআর হলে আদালত তো হস্তক্ষেপ করবেই। ইতিমধ্যেই মামলাকারীর উপর আক্রমণ হয়েছে। তাই তাঁকে সহযোগিতার কথা বলা হলে সমস্যাটা কোথায়?’- প্রশ্ন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য (Abhishek Banerjee)
২৪ ঘণ্টা আগেই সুপ্রিম কোর্ট বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করানোর অনুমতি দিয়েছিল। মঙ্গলবার হাইকোর্টেও স্বস্তি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৬ টি এফআইআর-এও এবার রক্ষাকবচ দিল হাইকোর্ট। এরমধ্যে ১৩ টি মামলায় আগেই রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন অভিষেক। মঙ্গলবার বাকি কালিতলা থানা, বিষ্ণুপুর থানা ও ভবানীপুর থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে যে তিনটি অভিযোগ ছিল, সেই তিনটি মামলায় আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকে রক্ষাকবচ দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য।
অর্থহীন হয়ে যাবে (Abhishek Banerjee)
এদিন মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী তথা অ্যাডিশনাল সলিসিটর এসভি রাজু সওয়ালে রক্ষাকবচের বিরোধিতা করে আবারও দাবি করেন, কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ নয়, অভিষেকের আগাম জামিনের আবেদন করা উচিৎ। তাই এই মামলার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিচারপতি ভট্টাচার্য্য অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের উদ্দেশ্যে পাল্টা প্রশ্ন করেন, এক্ষেত্রে যদি আদালত যদি অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ না দেয় তাহলে ডিজে বিতর্ক মামলায় আদালত যে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল, তাহলে তা অর্থহীন হয়ে যাবে।
গ্রহণযোগ্যতাই নেই (Abhishek Banerjee)
এসভি রাজু পাল্টা অভিযোগ করেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে অবৈধ খননে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিচারপতি ভট্টাচার্য্য ঘটনার দীর্ঘ সময় পর এফআইআর করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন, সেই অভিজিৎ দাস (ববি) এই অভিযোগগুলো করেছেন? এফআইআর গুলো কোন সময় করা হয়েছে দেখুন? অন্তর্বর্তি স্থগিতাদেশ দেওয়ার জন্য এটাই কি যথেষ্ট নয়! পুলিশ পুলিশের মতো তদন্ত করুক। তদন্তের অগ্রগতি কতটা হয়েছে সেটাও দেখতে চায় আদালত।’ তখন এসভি রাজু পাল্টা সওয়াল করে বলেন, এফআইআর করতে দেরি হয়েছে বলেই রক্ষাকবচ পাবে, এটা আইন নয়। এই মামলার কোনও গ্রহণযোগ্যতাই নেই।’
গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে (Abhishek Banerjee)
অভিষেকের বিরুদ্ধে আরেক অভিযোগকারীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভা নির্বাচনে বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ৭ লক্ষেরও বেশি ভোটে জিতেছে। ওই বিধানসভায় এত ভোটারই নেই। তাই তাঁকে গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। ওঁকে গ্রেফতার না করলে, উনি এতটাই প্রভাবশালী যে, এখনও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। না হলে, অনেকেই ভয় পাবেন। তখন আর অভিযোগ করতে কেউ সাহস দেখাবেন না।’
সমস্যাটা কোথায়? (Abhishek Banerjee)
তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য এই দাবি বা অভিযোগ মানতে রাজি হননি। তিনি বিরোধীপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘রাজ্যে যদি রাজনৈতিক পালা বদল না হতো, তাহলে কি আপনারা এই অভিযোগ করতে পারতেন? তাই বাস্তবকে অস্বীকার করা উচিৎ নয়। আপনারা ৪ মে-এর আগে কাস্টোডিয়াল জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পারতেন। এত দেরি করে এফআইআর হলে আদালত তো হস্তক্ষেপ করবেই। ইতিমধ্যেই মামলাকারীর উপর আক্রমণ হয়েছে। তাই তাঁকে সহযোগিতার কথা বলা হলে সমস্যাটা কোথায়?
আরও পড়ুন: Neha Bora: ‘যার পাশে মানুষ থাকে, তার মঞ্চ লাগে না’, নেহা বোরাকে নিয়ে দিলীপের বার্তা
অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ
রাজ্যের আইনজীবী এসভি রাজু কেস ডায়েরি ছাড়া কোনও অন্তবর্তী নির্দেশ না দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ করেন। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সম্পর্কে বক্তব্য শুনে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কালিতলা, বিষ্ণুপুর এবং ভবানীপুর থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়ার নির্দেশ দেন।



