Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক (Abhishek Banerjee) উত্তাপ ক্রমশ চরমে উঠছে। SIR ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন-দুই শিবিরের সংঘাত প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সকলেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন। পাল্টা আক্রমণ শানাতে পিছপা হয়নি বিজেপিও।
‘রণ সংকল্প সভা’ (Abhishek Banerjee)
কোচবিহারে আয়োজিত ‘রণ সংকল্প সভা’ থেকে এদিন ফের (Abhishek Banerjee) মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভার মঞ্চ থেকে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাতে একাধিক প্রশ্ন তুললেও তার কোনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। অভিষেকের অভিযোগ, আলোচনার সময় কমিশনের তরফে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মনোনীত ও নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্যে পার্থক্য থাকা উচিত এবং জনপ্রতিনিধিদের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয়, কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে নয়।

বিতর্কের সূত্রপাত (Abhishek Banerjee)
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের (Abhishek Banerjee) শেষ দিনে। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, বৈঠকের সময় তৃণমূল প্রতিনিধিদের কথা বলতেই দেওয়া হচ্ছিল না, বারবার বাধা দেওয়া হয় এবং আলোচনার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমনকি আঙুল তুলে কথা বলার অভিযোগও করেন তিনি। অভিষেক জানান, জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন এবং তাঁদের জবাবদিহি রাজ্যের মানুষের কাছেই।

নির্বাচন কমিশন ও তৃণমূলের সংঘাত
এই ঘটনার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন ও তৃণমূলের সংঘাত আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়। SIR ইস্যুতে অভিষেক ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছেন যে, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। কোচবিহারের সভায় তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদে ‘ভূতেদের র্যাম্পওয়াক’ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোচবিহার জেলার ১০ জন বাসিন্দাকে ভোটার তালিকায় মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে, যাঁরা বাস্তবে জীবিত এবং উপস্থিত। এই ঘটনাকে তিনি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: India Weather Update: শীতের হাওয়ায় কাঁপবে বাংলা, দিল্লিতে তাপমাত্রা ৩-এর ঘরে!
ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা
অভিষেকের অভিযোগ, দিল্লির ক্ষমতাসীনদের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, এই লড়াই শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নয়, বরং গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই।

সভা থেকে তিনি বার্তা দেন, আগামীর নির্বাচনী লড়াই হবে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ময়দান। সব মিলিয়ে ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে SIR ইস্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।


