Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা টেলিভিশন জগতের এক পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক আর নেই (Actress Shrabani Banik)। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের অ্যাডেনোকার্সিনোমা অর্থাৎ ফুসফুস ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে অবশেষে হার মানলেন তিনি। সোমবার সকালে শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী। এই খবরে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া, স্তব্ধ তাঁর সহকর্মী, বন্ধু ও অনুরাগীরা।

নীরব ঘাতক রোগ (Actress Shrabani Banik)
সূত্রে জানা যায়, শ্রাবণী বণিক ভুগছিলেন ফুসফুসের অ্যাডেনোকার্সিনোমায় যা ফুসফুস ক্যান্সারের একটি মারাত্মক ধরন। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা না পড়লে এই রোগ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। গত কয়েক সপ্তাহে শ্রাবণীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা আর হল না।
জনপ্রিয়তা থাকলেও আর্থিক অসহায়তা (Actress Shrabani Banik)
টেলিভিশনের পর্দায় বহু বছর কাজ করে পরিচিতি পেলেও বাস্তব জীবনে আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছল ছিলেন না শ্রাবণী (Actress Shrabani Banik)। ক্যান্সারের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল লক্ষ লক্ষ টাকা। সেই অর্থ জোগাড় করাই হয়ে দাঁড়ায় তাঁর পরিবারের সবচেয়ে বড় লড়াই। এই বাস্তবতা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল গ্ল্যামারের আড়ালে কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারেন শিল্পীরাও।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহায্যের আবেদন (Actress Shrabani Banik)
চলতি বছরের নভেম্বর মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি হৃদয়বিদারক পোস্ট ভাইরাল হয়। পোস্টটি করেছিলেন শ্রাবণীর ছেলে অচ্যুত আদর্শ। সেখানে তিনি লেখেন, “আমাদের সকলের প্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবণী ক্যান্সারে আক্রান্ত। মাকে বাঁচাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। আপনাদের সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। আপনারা অল্প সাহায্য করলেও তা আমাদের কাছে অমূল্য।” বন্ধু, সহকর্মী ও অনুরাগীদের কাছে হাত পাততে বাধ্য হয়েছিল পরিবার। অনেকেই এগিয়ে এলেও প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা সময়সাপেক্ষ ছিল। সেই সময়ই ধীরে ধীরে আরও জটিল হয়ে ওঠে শ্রাবণীর শারীরিক অবস্থা।
টলিপাড়ায় শোকের ছায়া (Actress Shrabani Banik)
শ্রাবণীর প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। সহকর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তায় ভাসিয়ে দেন অভিনেত্রীকে। পরিচালক বাবু বণিক-এর লেখা শোকবার্তা বিশেষভাবে হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিনি লেখেন, “কিছু পরিচয় কাজের সূত্রে হয়, কিন্তু সেই পরিচয় যখন কোনও চাওয়াপাওয়া বা স্বার্থ ছাড়িয়ে এক অন্য মাত্রা নেয়, তখন সেটাই প্রকৃত বন্ধুত্ব। আজ শ্রাবণীকে হারিয়ে আমরা বাকরুদ্ধ। বিশ্বাস করতে পারছি না, ও এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে। আত্মার কোনও মৃত্যু নেই ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।” এই কথাগুলির মধ্যেই ধরা পড়ে শ্রাবণীর সঙ্গে সহকর্মীদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা।
আরও পড়ুন: US Flight: একদিনেই বাতিল হাজারের বেশি উড়ান: ভ্রমণ মরসুমে আমেরিকায় চরম যাত্রী দুর্ভোগ
মেনে নিতে পারছেন না প্রিয়জনেরা
নভেম্বর মাসে সাহায্যের আবেদন, আর বছর শেষ হওয়ার আগেই শ্রাবণীর চলে যাওয়াএই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা। একজন মা, একজন অভিনেত্রী এবং একজন সংগ্রামী নারীর এই পরিণতি যেন আরও একবার সমাজকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় অসুস্থ শিল্পীদের জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত?



