Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বেঁধে দেওয়া হয়েছিল সময়। দীপাবলিতে বাজি ফাটানোর সেই নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে তিলোত্তমা-বাসী। বাস্তবে শহর যেন কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করেই মেতে উঠেছিল শব্দ ও আলোর বাজির উৎসবে। নিয়মকে কার্যকর করতে গিয়ে পুলিশি ধরপাকড় নিয়ে রাজনৈতিক তর্জাও কম হয় নি। কিন্তু আদতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পরিবেশ। এই পরিস্থিতিতে সামনে ছটপুজোতে (Chhath Puja) পরিবেশকে রক্ষা করে সম্ভব কী পুজো অর্চনা? কী বলছেন পরিবেশ-প্রযুক্তিবিদরা?
‘হিসাব-হীন’ ক্ষয়ক্ষতি!
ক্ষতটা এখনও দগদগে। প্রথমে কলকাতা তারপর উত্তরবঙ্গ, তুমুল বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি একাধিক মানুষের প্রাণ যাওয়ার মতো ঘটনা দেখা গিয়েছিল। প্রকৃতির সেই করাল রূপের জন্য মানুষকেই দায়ি করেছিল বিশেষজ্ঞ মহল। প্রকৃতিকে রক্ষার শপথও উঠেছিল। কিন্তু দীপাবলিকে কেন্দ্র করে শুধু শহর কলকাতাতেই যেভাবে শব্দ ও বায়ু দূষণ হয়েছে তাতে কতটা সচেতন হয়েছে মানুষ, তা নিয়ে সন্দেহ থাকছেই। যে হারে শব্দবাজির দাপট দেখা গেছে তাতে ডেসিবেলের মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেকাংশেই বেশি। পাশাপাশি প্রকৃতিবান্ধব নয় এমন আলোর বাজিও যথেষ্ঠ পরিমানে ফাটায়, এক ধাক্কায় বেড়েছে শহরের দূষণও। যা দেখে যথেষ্ঠই আশঙ্কিত পরিবেশবিদরা।
আরও পড়ুন:Weather Update: ছট পুজোয় বৃষ্টি! উৎসবে কি বাধা হয়ে দাঁড়াবে ‘মান্থা’?
পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন, দীপাবলির রাতে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ডেসিবেল মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ছিল। অনেকেই এমন আলোর বাজিও ব্যবহার করেছেন, যা প্রকৃতিবান্ধব নয় এবং বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছড়িয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, গত কয়েক মাস ধরে প্রকৃতির যে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে—তা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
ছটপুজোয় (Chhath Puja) পরিবেশ রক্ষায় প্রস্তুত প্রশাসন
অন্যদিকে সামনেই ছটপুজো। এই ছটপুজোকে (Chhath Puja) কেন্দ্র করে বারবারই বিতর্কে এসেছে দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর। প্রথম কয়েক বছর লেকের জল ব্যবহারে নিষেদ্ধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। বহুবার দেখা গিয়েছে, ভক্তরা লেকের জলে নেমে পুজো সম্পন্ন করেছেন। এতে কেবল লেকের জীববৈচিত্র্যই নয়, জলমানও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয় বলে দাবি পরিবেশ-প্রযুক্তিবিদদের।

আরও পড়ুন:Indian Railways: ভোজপুরি গানের দাপট! রেলের সংস্কৃতিতে কি ঢুকে পড়ছে ‘বিহারিয়ানা’?
তবে বর্তমান প্রশাসন এক্ষেত্রে তৎপর হয়েছে। ২৬ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ অবধি সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রবীন্দ্র সরোবর। পুজো অর্চনার জন্য দক্ষিণ ও উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম জলাশয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না করে ধর্মীয় আচার পালন সম্ভব হয়। পরিবেশবিদদের মতে, “মানুষের বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে পরিবেশ রক্ষার পথ খুঁজে বের করতেই হবে। ছটপুজো (Chhath Puja) প্রকৃতির পুজো, তাই প্রকৃতিকেই বাঁচিয়ে রাখার বার্তা দিক এই উৎসব।”


