Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় সিনেমা শুধু গল্প, অভিনয় কিংবা বিশাল বাজেটের নিরিখেই যে নতুন উচ্চতা ছুঁতে পারে, তা আরও একবার প্রমাণ করল আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘রাকা’ (Allu Arjun)। পরিচালক অ্যাটলির এই ম্যাগনাম ওপাসে একই সঙ্গে ৩৭ জন পারফর্মারের রিয়েল-টাইম মোশন ক্যাপচার করে তৈরি হয়েছে বিশ্বরেকর্ড। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৈরি হওয়া এই নজিরকে ১৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

কীভাবে সম্ভব হল এই নজির? (Allu Arjun)
‘মোস্ট পিপল মোশন ক্যাপচার্ড ইন রিয়েল টাইম’ বিভাগে এই রেকর্ড তৈরি করতে একটি সিঙ্গল সেশনে একই সময়ে ৩৭ জন পারফর্মারের গতিবিধি ক্যামেরাবন্দি করা হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই তালিকায় ছিলেন ৪ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৭০ বছর বয়সি পারফর্মারও। প্রত্যেকের আলাদা পারফরম্যান্সকে একই সময়ে নির্ভুলভাবে ক্যাপচার, প্রসেস এবং সংরক্ষণ করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
৯২টি ক্যামেরায় ধরা পড়ল প্রতিটি মুহূর্ত (Allu Arjun)
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য ব্যবহার করা হয় ৯২টি অপটিক্যাল মোশন-ক্যাপচার ক্যামেরা। শুধু ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ালেই অবশ্য এমন নিখুঁত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। তার সঙ্গে প্রয়োজন হয়েছিল উন্নত ক্যালিব্রেশন, নেটওয়ার্কিং এবং সিনক্রোনাইজেশন প্রযুক্তির। রিয়েল-টাইম আনরিয়েল ভিজ্যুয়ালাইজেশন, উইটনেস ক্যামেরা এবং ফেশিয়াল ক্যাপচারের মতো প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হয়।
তৈরি হয়েছিল নতুন প্রযুক্তিগত পাইপলাইন (Allu Arjun)
‘রাকা’-র বিশাল পরিসরের কথা মাথায় রেখে ছবির ভিএফএক্স টিমের নেতৃত্বে তৈরি করা হয় বিশেষ মোশন-ক্যাপচার পাইপলাইন ও ওয়ার্কফ্লো। একাধিক প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গোটা প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়। ফলে অভিনয়শিল্পীদের শারীরিক অভিব্যক্তি থেকে শুরু করে মুখের সূক্ষ্ম পরিবর্তন—সবকিছুই ভবিষ্যতের ভিজ্যুয়াল এফেক্টসের কাজে ব্যবহারযোগ্যভাবে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
আল্লু অর্জুন-অ্যাটলির কাছে স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত (Allu Arjun)
এই বিশ্বরেকর্ডে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত আল্লু অর্জুন। অভিনেতার বক্তব্য, এই স্বীকৃতি সিনেমার সম্ভাবনার সীমাকে আরও এগিয়ে দিয়েছে এবং গোটা টিমের কাছে এটি অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। পরিচালক অ্যাটলিও এই সাফল্যকে স্বপ্নের মতো বলে উল্লেখ করেছেন। ছোটবেলা থেকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নাম শুনে বিস্মিত হওয়া, আর পরবর্তীকালে নিজের ছবির মাধ্যমে সেই তালিকায় জায়গা করে নেওয়া—তাঁর কাছে নিঃসন্দেহে বিশেষ অর্জন।
আরও পড়ুন: Bhangar College: ভাঙড় কলেজে উত্তেজনার পর গ্রেফতার ৪, আদালতে তোলা হবে ধৃতদের
প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার নতুন অধ্যায়
সান পিকচার্সের প্রযোজনা, অ্যাটলির ভাবনা, আল্লু অর্জুনের পারফরম্যান্স এবং আন্তর্জাতিক মানের ভিএফএক্স ও প্রযুক্তির সম্মিলিত প্রয়াসেই তৈরি হয়েছে এই নজির। ফলে ‘রাকা’-র গিনেস স্বীকৃতি শুধু একটি রেকর্ড নয়; ভারতীয় সিনেমার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সৃজনশীল উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্বমানের নির্মাণপ্রক্রিয়ারও একটি উল্লেখযোগ্য প্রদর্শন। আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে ভারতীয় সিনেমা যে গল্প বলার পাশাপাশি প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে, এই রেকর্ড তারই বড় উদাহরণ।



