Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পোন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক, প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলে এসেছে (Amit Shah)। এক সময় দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্য হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গ পরবর্তী কয়েক দশকে একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান হারিয়েছে। ফলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে বারবার।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে শিল্পায়নকে নতুন করে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছে সরকার। সেই আবহেই পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের অন্যতম বড় ঘোষণা হিসেবে সামনে এসেছে আমুলের নতুন দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ ও দই উৎপাদন কেন্দ্র। এই প্রকল্পকে শুধু একটি নতুন কারখানা হিসেবেই দেখা হচ্ছে না, বরং রাজ্যের শিল্প, কৃষি এবং দুগ্ধ অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই উৎপাদন কেন্দ্রের পথে বাংলা
রবিবার কলকাতার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আমুল বেঙ্গল ডেয়ারির নতুন দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং বিভিন্ন শিল্প ও প্রশাসনিক মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। প্রকল্পটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, এটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিদিন এখানে প্রায় ১০ লক্ষ কেজি দই উৎপাদনের পাশাপাশি লস্যি, সরবৎ এবং বিভিন্ন ধরনের দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্য তৈরি হবে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ শুধু পূর্ব ভারতের নয়, গোটা দেশের দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে (Amit Shah)।
ফুড পার্কেই গড়ে উঠবে বিশাল প্রকল্প (Amit Shah)
জানা গিয়েছে, হাওড়ার সালকিয়া ফুড পার্কে এই অত্যাধুনিক ডেয়ারি প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। এটি হবে আমুলের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মালিকানাধীন ডেয়ারি প্ল্যান্ট। প্রকল্পে মোট প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। গুজরাটের একটি সংস্থা ধাপে ধাপে এই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের গুণগত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই কারখানাকে পরিচালিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান ও কৃষকদের জন্য বড় সুযোগ (Amit Shah)
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে। কারখানার প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবহণ, প্যাকেজিং, কোল্ড চেইন, লজিস্টিকস, বিপণন এবং আনুষঙ্গিক পরিষেবার ক্ষেত্রেও বহু নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধচাষিরাও এই প্রকল্প থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হতে পারেন। অধিক পরিমাণে দুধ সংগ্রহের প্রয়োজন হওয়ায় গ্রামের ক্ষুদ্র ও মাঝারি দুগ্ধ উৎপাদকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলার দুগ্ধ অর্থনীতিতে নতুন গতি (Amit Shah)
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আমুল অন্যতম বৃহৎ দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রয়কারী সংস্থা। প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ লিটার দুগ্ধজাত পণ্য বাজারজাত করে সংস্থাটি। নতুন কারখানা চালু হলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ বাজারে এখান থেকে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ফলে পরিবহণ ব্যয় কমবে, সরবরাহ আরও দ্রুত হবে এবং ভোক্তার কাছেও পণ্য সহজে পৌঁছবে।
শিল্প বিনিয়োগে ধারাবাহিকতার বার্তা (Amit Shah)
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক বড় শিল্প বিনিয়োগের ঘোষণা সামনে এসেছে। হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজির নতুন প্রকল্প, বাঁকুড়ার মেজিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং এবার আমুলের এই বৃহৎ প্রকল্প—সব মিলিয়ে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন গতি আনার চেষ্টা স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারও শুরু থেকেই শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন দ্রুত দেওয়া, জমি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও সরকারি সূত্রে দাবি।
প্রকল্পের সূচনা আগেই, গতি এখন বেশি
আমুল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক ২০২৫ সালেই তৎকালীন রাজ্য সরকারের সময় স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসনের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু করার পথ আরও সহজ হয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও নজর আমুলের (Amit Shah)
শুধু হাওড়াতেই নয়, ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গেও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে আমুলের। যদি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে উত্তরবঙ্গের দুগ্ধচাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে।

শিল্প, কৃষি ও কর্মসংস্থানের ত্রিমুখী সমন্বয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক শিল্পায়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কৃষি ও শিল্পের সমন্বিত বিকাশ। দুগ্ধশিল্প সেই দৃষ্টান্তগুলির অন্যতম। কারণ এখানে কৃষক, পশুপালক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, পরিবহণ ব্যবস্থা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং খুচরো বাজার সব ক্ষেত্রই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে দুগ্ধ সংগ্রহের পরিকাঠামো আরও উন্নত হবে, নতুন কোল্ড স্টোরেজ ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক তৈরি হবে এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার ঘটবে।



