Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চিনের সাংহাই বিমানবন্দরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার (Arunachal Women Harassed) মুখোমুখি হলেন অরুণাচল প্রদেশের এক তরুণী। খাবার বা জল ছাড়াই টানা ১৮ ঘণ্টা ধরে তাঁকে একই চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। শৌচাগার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও বাকিটা সময় তিনি কার্যত ‘বন্দি’ অবস্থায় ছিলেন। সেই লজ্জাজনক অভিজ্ঞতার কথাই প্রকাশ্যে আনলেন পেমা ওয়াংজম থংডক।
সম্পূর্ণ বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও…(Arunachal Women Harassed)
মঙ্গলবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে পেমা জানান, সম্পূর্ণ বৈধ ভারতীয় (Arunachal Women Harassed) পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ট্রানজিটের সময় আটকানো হয়। অভিবাসন দফতরের কর্মীরা তাঁর পাসপোর্টকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেন এবং তাঁকে জানান—“অরুণাচল প্রদেশ চিনের অংশ”। পেমার কথায়, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে নথি জমা দেওয়ার পরই তাঁকে লাইনের বাইরে ডেকে নিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। এরপর খাওয়াদাওয়ার কোনও ব্যবস্থা ছাড়াই তাঁকে অপেক্ষা কক্ষে একটি ছোট চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয় দীর্ঘক্ষণ।
এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি (Arunachal Women Harassed)
তিনি আরও জানান, আগেও সাংহাই হয়ে যাতায়াত করেছেন (Arunachal Women Harassed) তিনি, তবে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমি চিনা নাগরিক নই। চিনের ভাষা জানি না, সেখানে ভোটাধিকার বা সম্পত্তিও নেই। আমি একজন গর্বিত ভারতীয় এবং অরুণাচল ভারতেরই অংশ-এটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।”
ইচ্ছাকৃত কটাক্ষের জবাব দেওয়ার সময় নেই
চলতে থাকা ট্রোলিং নিয়ে তিনি বলেন, তাঁর সরকারি দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই কারণে ইচ্ছাকৃত কটাক্ষের জবাব দেওয়ার সময় নেই। তবে যাঁরা তাঁকে সমর্থন করেছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাঁর মতে, এই ঘটনার পর যদি ভারত সরকার কোনও পদক্ষেপ নেয়, তবে তা তাঁর জন্য নয়, বরং অরুণাচলের প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা একই দেশের মানুষ। তাই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই উচিত।”

অভিযোগ অস্বীকার করে
অন্যদিকে, মঙ্গলবারই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিবৃতি দেয় চিনের বিদেশ মন্ত্রক। তাদের দাবি-অভিবাসন কর্তারা নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন এবং বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে খাবার ও পানীয়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে পুরনো অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তারা জানায়, তারা অরুণাচলকে ‘জাংনান’ নামে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে এবং ভারতের দাবি তারা মানে না।

আরও পড়ুন: Stock Market: শেয়ার বাজারে ৩৫ গুণ লাভ, কোন স্টকে কত বিনিয়োগ?
দিনের শেষে, ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট ও কঠোর। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিককে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা নিন্দনীয় এবং আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ-এ বিষয়ে কোনও বিতর্ক নেই।”


