Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: অসমে ভয়াবহ বন্যায় ইতিমধ্যেই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Assam Floods)। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অসমের বন্যা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হচ্ছে। অসমে বিপুল সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী মানুষের বসবাসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিপর্যয়ের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সরকারের মানবিক দায়িত্ব এই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে তাঁর বক্তব্যে।
প্রাক্তন বিধায়কদের আর্থিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গ (Assam Floods)
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের সরকার প্রাক্তন বিধায়কদের জন্য যথেষ্ট আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেনি। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন দলের এমন বহু বিধায়ক রয়েছেন, যাঁরা সততার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করেছেন বলে তিনি মনে করেন।
বর্ষীয়ান জনপ্রতিনিধিদের প্রতি দায়িত্ব (Assam Floods)
মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক দীনবন্ধু রায় এবং বাসন্তীর প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুভাষ নস্করের প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। তাঁদের কাজ ও ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সরকারের একটি দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথাও তিনি স্বীকার করেন।

চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা (Assam Floods)
প্রাক্তন বিধায়কদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন যেখানে মাসিক চিকিৎসা ভাতা ছিল ৬ হাজার টাকা, তা বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন জনসেবায় যুক্ত থাকা প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিধায়কদের জন্য ‘সেবাকেন্দ্র’ (Assam Floods)
বর্তমান বিধায়কদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যেক বিধায়ককে নিজের বিধানসভা এলাকায় একটি করে ‘সেবাকেন্দ্র’ চালু করার কথা বলা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই রাজ্যের শতাধিক বিধায়ক এই ধরনের সেবাকেন্দ্র চালু করেছেন। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনা এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
নেতাজির নামে সেবাকেন্দ্র (Assam Floods)
এই সেবাকেন্দ্রগুলির নামকরণ নিয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, বিধায়কদের চালু করা সেবাকেন্দ্রের নাম রাখতে হবে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’। পাশাপাশি সেখানে ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি রাখার শর্তও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ জনসেবার সঙ্গে নেতাজির আদর্শ ও স্মৃতিকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:North Bengal: বাঙালি-ভাটিয়াদের নিয়ে মন্তব্যে আইনি জটিলতায় তৃণমূল যুবনেতা
মাসে ৩০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা
নির্ধারিত দুটি শর্ত, সেবাকেন্দ্রের নাম ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’ রাখা এবং সেখানে ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত নেতাজির ছবি রাখা, পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন অসমের বন্যায় মানবিক সহায়তার বার্তা উঠে এসেছে, তেমনই অন্যদিকে প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের কল্যাণ এবং বর্তমান বিধায়কদের জনসংযোগমূলক কাজকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার একাধিক উদ্যোগের কথাও সামনে এসেছে।



