Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কৈলাশে ফেরার পথে মা দুর্গার বিদায়ের সুর বেজে উঠেছে বাংলার সর্বত্র (Taki Rajbari)। কলকাতা থেকে গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সর্বত্রই আজ প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন। সেই আবেগময় বিদায়ের অন্যতম কেন্দ্র হল সীমান্ত লাগোয়া বসিরহাট মহকুমার টাকি রাজবাড়ি। শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য মেনেই আজও টাকি রাজবাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জন হয় ইছামতী নদীতে।

সিঁদুর খেলা ও পান্তা ভাতের ভোগ (Taki Rajbari)
দশমীর সকালে রাজবাড়ির মহিলারা দেবী বরণ শেষে মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়। ঠাকুর দালানে ঢাক-ঢোলের বাদ্যে, হাসি-আনন্দে ভরে ওঠে পরিবেশ। বিদায়ের আবেগকে রঙিন সিঁদুরে ঢেকে দেওয়ার এই ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।
বিদায়ের আগে মাকে নিবেদন করা হয় এক বিশেষ ভোগ পান্তা ভাত, কচু শাক, চালতার চাটনি, আলু সিদ্ধ ও আলু ভাজা। খবর সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ির সদস্যা শর্মিষ্ঠা ঘোষ জানান, “সমস্ত বিধি মেনে দশমীর পূজা সম্পন্ন হয়েছে। ভোগও নিবেদন করা হয়েছে মায়ের কাছে।”

কাঁধে করে প্রতিমা শোভাযাত্রা (Taki Rajbari)
টাকি রাজবাড়ির ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতিমা নিরঞ্জনে কোনও যানবাহন ব্যবহার করা হয় না। এখনও পর্যন্ত প্রথা অটুট ২৪ জন বেয়ারার কাঁধে করে প্রতিমাকে রাজবাড়ির ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিমা নামার মুহূর্তে চারপাশে ভিড় জমে যায় অসংখ্য দর্শনার্থীর।
ইছামতীতে বিসর্জনের আবেগ (Taki Rajbari)
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীই টাকি রাজবাড়ির প্রতিমা বিসর্জনের মূল কেন্দ্র। ঐতিহ্য মেনে প্রতিমা তোলা হয় নৌকোয়। নদীর বুকে প্রতিমা প্রদক্ষিণ শেষে হয় বিসর্জন। এই মুহূর্তটি ঘিরে দুই দেশের মানুষজনের আবেগ একাকার হয়ে যায়। ভারতের এক পাড় ও বাংলাদেশের অপর পাড় উভয় দিক থেকেই ভিড় জমে যায় হাজার হাজার দর্শকের। বৃষ্টি ভেজা আবহাওয়ার মধ্যেও আজ ঘাটে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
কড়া নিরাপত্তায় সীমান্ত ঘাট (Taki Rajbari)
এত বিপুল জনসমাগমের কারণে আজ ইছামতী নদীর দুই পারে কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।
- ভারতীয় BSF ও বাংলাদেশের BGB যৌথভাবে নজরদারি করছে।
- স্পিড বোটে টহল চালাচ্ছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা।
- টাকি শহরকে ঘিরে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
- ঘাটের চারপাশ জুড়ে মোতায়েন পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী।
এছাড়াও বিসর্জনের পরে ঘাটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: Durga Puja Carnival 2026: কার্নিভ্যালে সেরা প্রতিমা দেখতে চাইলে কোন রাস্তায় মিলবে প্রবেশের সুযোগ?
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা (Taki Rajbari)
আগে ভারত-বাংলাদেশ মিলন উৎসবের মধ্য দিয়ে ইছামতীর বিসর্জন হয়ে উঠত আরও রঙিন। যদিও বর্তমানে সেই মিলন উৎসব বন্ধ, তবু আজও টাকি রাজবাড়ির বিসর্জনে বজায় আছে চিরাচরিত প্রথা ও আবেগ।



