Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: থানায় থানায় কালীপুজো এবং কালীমন্দির রাখার পুরনো রীতিকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে আলোচনা (Kali Puja)। রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বীরভূমের পুলিশমহলকে থানায় কালীপুজোর পুরনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টিকে শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে বঙ্গ সংস্কৃতি ও পুলিশের নিজস্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
পুলিশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরনো ঐতিহ্য (Kali Puja)
একসময় বাংলার বহু থানায় কালীমূর্তি বা ছোট মন্দির থাকার প্রচলন ছিল। পুলিশকর্মীদের অনেকেই থানার সেই পুজোয় অংশ নিতেন। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সেই ঐতিহ্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এমনকি রঘু ডাকাতদের ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে কালীপুজোর প্রসঙ্গও তিনি রসিকতার ছলে টেনেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, অপরাধ দমনে বেরনোর আগে পুলিশও যেন মায়ের আশীর্বাদ নিতে পারে—এই সাংস্কৃতিক আবহের কথাই।
ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন উঠবেই (Kali Puja)
তবে থানার মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনও দেবতার মূর্তি বা পুজো রাখা নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না। ফলে এই ধরনের আয়োজন কীভাবে এবং কোন কাঠামোর মধ্যে হবে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। বিশেষ করে কোনও ধর্মীয় আচার যেন সরকারি কর্তব্যের অংশ হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলার সংস্কৃতিতে ধর্ম ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন (Kali Puja)
অন্যদিকে বাংলার সামাজিক জীবনে বহু ধর্মীয় আচার দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কৃতির অংশ হয়ে রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পুজো, কারখানায় বিশ্বকর্মা পুজো কিংবা বিভিন্ন সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত নানা উৎসব তার উদাহরণ। এগুলিকে অনেক ক্ষেত্রেই নিছক ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবেই দেখা হয়।
কালীপুজোর তাৎপর্য শুধুই ধর্মীয় নয়
শাক্তধর্মে কালীকে আদিশক্তি এবং অশুভের বিনাশের প্রতীক হিসেবে কল্পনা করা হয়। অমাবস্যার অন্ধকারে দীপ জ্বালানোর মধ্যেও রয়েছে অন্ধকারের উপর আলোর জয়ের প্রতীকী তাৎপর্য। তাই কালীপুজোকে ঘিরে বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য ও সামাজিক উৎসবের দীর্ঘ ঐতিহ্যও রয়েছে।
আরও পড়ুন: North Bengal: ভুটানের বিপর্যয়ের প্রভাব সংকোশে, মরা মাছ ঘিরে আতঙ্ক
ঐতিহ্য ফিরুক, বিতর্ক নয়
থানায় কালীপুজো ফিরলে সেটিকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সরকারি ক্ষমতার ব্যবহার, কর্মীদের উপর কোনও বাধ্যবাধকতা কিংবা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের মতো বিষয় যেন এর সঙ্গে যুক্ত না হয়। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পালন যদি হয়ও, তা হওয়া উচিত স্বচ্ছতা ও স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে। ধর্মীয় বিশ্বাস যার যার ব্যক্তিগত; কিন্তু বাংলার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মান করার জায়গাটিও অস্বীকার করা যায় না। সেই ভারসাম্য রেখেই থানায় কালীপুজোর পুরনো সংস্কৃতি ফিরবে কি না, এখন সেটাই দেখার।



