Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রায় সাত বছর আগে ব্যান্ডেল স্টেশনে দিনের আলোয় গুলি করে খুন করা হয়েছিল তৃণমূল নেতা দিলীপ রামকে (Dilip Ram Murder Case)। সেই বহুচর্চিত হত্যা মামলায় সাত অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল চুঁচুড়া আদালত। বিচারক কৌস্তভ মুখার্জি মঙ্গলবার সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করার পর বুধবার সাজা ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবনের পাশাপাশি প্রত্যেকের ওপর আর্থিক জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।

কারা দোষী সাব্যস্ত হলেন? (Dilip Ram Murder Case)
আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মহঃ নাসিম ওরফে গুড্ডু, সাদ্দাম হোসেন, মঙ্গল যাদব, বৈজনাথ রায় ওরফে হেডেক, মহঃ আকবর, মহঃ সানু এবং মহঃ মানু। রায় ঘোষণার সময় সাতজনই জেল হেফাজতে ছিলেন। আদালত প্রত্যেককে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে।
কীভাবে খুন করা হয়েছিল দিলীপ রামকে?
২০১৯ সালের ২৯ জুন সকালে নৈহাটিতে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য প্রতিদিনের মতো ব্যান্ডেল স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ধরতে যাচ্ছিলেন দিলীপ রাম। সেই সময় পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়। ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী রিতু সিং ব্যান্ডেল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
কোন প্রমাণে দোষী সাব্যস্ত? (Dilip Ram Murder Case)
মামলার সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, তদন্তকারী অফিসার প্রদীপ দাঁ ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যেই চার্জশিট জমা দেন। মামলায় মোট ৩৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। চারজন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান এবং উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে মৃতের মাথা থেকে পাওয়া গুলির ফরেনসিক মিল আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়। তদন্তে প্রমাণিত হয়, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করেই এই খুন সংঘটিত হয়েছিল।
জমি-বিবাদ থেকেই খুনের ছক (Dilip Ram Murder Case)
তদন্তে উঠে আসে, ব্যান্ডেলের মাদক কারবারি সমুন্দ্রি যাদব ওরফে শকুন্তলা দেবীর সঙ্গে একটি জমি নিয়ে বিরোধ ছিল দিলীপ রামের। অভিযোগ, প্রায় তিন লক্ষ টাকার সুপারি দিয়ে ভাড়াটে দুষ্কৃতীদের দিয়ে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার আগে একাধিকবার ব্যান্ডেল স্টেশনে রেইকি চালানো হয়েছিল বলেও তদন্তে জানা যায়।

আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও পলাতক অভিযুক্ত
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও নিহতের স্ত্রী রিতু সিং বলেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল দোষীদের মৃত্যুদণ্ড হবে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এখনও পলাতক মূল অভিযুক্ত সমুন্দ্রি যাদব ও তাঁর ছেলে আজাদকে দ্রুত গ্রেফতার করা হোক। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, পলাতক দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তারা গ্রেফতার হলেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।



