Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘ডায়াবেটিস আজকের দিনে সবচেয়ে সাধারণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগগুলোর একটি (Benefits of Turmeric)। এ রোগে আক্রান্ত হলে শরীর হয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, নয়তো ইনসুলিনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে না। ইনসুলিন হলো এমন এক গুরুত্বপূর্ণ হরমোন, যা খাবার থেকে পাওয়া শর্করাকে (গ্লুকোজ) শক্তিতে রূপান্তর করে। ইনসুলিনের ঘাটতি বা অকার্যকারিতার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, আর এর ফলেই দেখা দেয় ডায়াবেটিস। দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণহীন রক্তে শর্করার প্রভাব পড়ে কিডনি, চোখ, স্নায়ু, হৃদ্যন্ত্রসহ একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে।
কিন্তু সুখবর হলো—ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং কিছু ভেষজ উপাদান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো হলুদ।

প্রাচীন চিকিৎসায় হলুদের ঐতিহ্য (Benefits of Turmeric)
- হজমশক্তি বাড়াতে
- যকৃতের কার্যকারিতা উন্নত করতে
- বাত ও আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে
- ক্ষত বা প্রদাহ সারাতে
কারকিউমিন: হলুদের মূল সক্রিয় উপাদান (Benefits of Turmeric)
- কারকিউমিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
- এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে, ফলে শরীর ইনসুলিনকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে।
- ডায়াবেটিসজনিত প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- দীর্ঘমেয়াদে স্নায়ুর ক্ষতি, হৃদ্রোগ, কিডনির সমস্যা ইত্যাদি জটিলতা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
গবেষণায় যা উঠে এসেছে (Benefits of Turmeric)
- ২০১৩ সালে ‘ডায়াবেটিস কেয়ার’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা: দেখা গেছে, কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট প্রি-ডায়াবেটিক ব্যক্তিদের টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
- ২০২১ সালের বিভিন্ন গবেষণার পর্যালোচনা: প্রমাণ মিলেছে, কারকিউমিন নিয়মিত সেবনে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হ্রাস পায়। এছাড়া ডায়াবেটিসজনিত জটিলতাও কমতে পারে।
হলুদ খাওয়ার সহজ উপায় (Benefits of Turmeric)
- রান্নায় ব্যবহার: প্রতিদিনের খাবারে অল্প পরিমাণ হলুদ ব্যবহার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
- গোল্ডেন মিল্ক বা হলুদের দুধ: এটি প্রদাহ কমাতে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
- সাপ্লিমেন্ট আকারে: বাজারে কারকিউমিনযুক্ত ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট পাওয়া যায়, তবে এগুলো গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সতর্কতা (Benefits of Turmeric)
- বমি বমি ভাব বা অম্বল
- হজমের সমস্যা ও ডায়রিয়া
- দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সেবনে লিভারের ক্ষতি
আরও পড়ুন:Rituparno Ghosh: সিনেমার ফ্রেমে সমাজবদলের আলো জ্বালানো এক শিল্পী!
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য করণীয়
সুষম খাদ্যাভ্যাস: শাকসবজি, ফল, আঁশযুক্ত খাবার ও পূর্ণ শস্য খাওয়া।
নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন কমানো।
চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ।



