Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তর দিনাজপুরের বিন্দোল এলাকায় কাঞ্চন নদীর তীরে অবস্থিত ভৈরবী মন্দির প্রায় পাঁচ শতক আগের (Bengal Govt)। সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মন্দিরে প্রধানত টেরাকোটা ও কালো পাথরের ভৈরবী মূর্তি সংরক্ষিত। ইতিহাসবিদ আনন্দগোপাল ঘোষের তথ্য অনুযায়ী, তখনকার ভাতুরিয়া জমিদার গনেশ নারায়ণ শিবভক্ত ছিলেন। তাঁর নির্দেশেই বাংলাদেশ থেকে বয়ে আসা নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। মন্দিরের স্থাপত্য এবং কারুকার্য সুলতানি আমলের চুন-সুরকি ও ইটের চিহ্ন বহন করে।

পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ (Bengal Govt)
রাজ্য সরকার সম্প্রতি এই সুপ্রাচীন মন্দিরের অবিকল আদি আদল ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্দিরের প্রত্নতাত্ত্বিক উপকরণ বিশ্লেষণ করে হুবুহু রঙসহ ইট ও চুন-সুরকি ব্যবহার করে সংস্কার করা হবে। উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৬৯ লক্ষ টাকার বরাদ্দ নিশ্চিত হয়েছে। রায়গঞ্জ শহরের ভৈরবী মন্দির পরিদর্শন করে আর্কিওলজি বিভাগের দুই সদস্যের প্রতিনিধিরা স্থাপত্যের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করেছেন। জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে পূর্ত দপ্তর ইতিমধ্যেই পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু করেছে। চোদ্দশ শতকের শেষলগ্নের টেরাকোটার মন্দির ও কালো পাথরের মূর্তির মূল ঐতিহ্য অক্ষত রেখে মন্দিরের কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা (Bengal Govt)
মন্দির সংস্কারে রায়গঞ্জ আর্কিওলজি দপ্তরের প্রধান রানা দেবদাস, জেলা পূর্ত দপ্তরের কার্যনির্বাহী স্থপতি এবং স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়াও মন্দির কমিটির সদস্যরাও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ও হেরিটেজ কমিশনের ইতিহাসবিদরা কার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে ইট ও চুন-সুরকির প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, যা নিশ্চিত করছে যে পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়ায় মূল স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব।
আরও পড়ুন: Iran: ইরানে মুদ্রার রেকর্ড দরপতন: জনরোষ দেশের বিভিন্ন শহরে, উঠছে খোমেইনি বিরোধী স্লোগান
পর্যটন সম্ভাবনা ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব (Bengal Govt)
মন্দিরের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলে কাঞ্চন নদীর পাড়ের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। ডিরেক্টরেট অফ আর্কিওলজি অ্যান্ড মিউজিয়াম দপ্তর মন্দিরের সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের হৃতগৌরব ফিরে এলে পর্যটক প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনীতির উন্নয়নের পাশাপাশি মন্দিরটি সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



