Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জিয়ারুল হক, জলপাইগুড়ি: গোবর থেকে তৈরী মিথেন গ্যাসে (Biogas Production) বিনা খরচে হচ্ছে তিনবেলার রান্না, অবাক করা কান্ড ঘটিয়ে নজির গড়লেন মেটেলির চা শ্রমিক কৃপা হাসদা
সমস্যার কার্যকর সমাধান (Biogas Production)
ক্রমাগত বাড়ছে রান্নার গ্যাস (Biogas Production) সিলিন্ডারের দাম। তার সঙ্গে দুর্গম এলাকা থেকে সিলিন্ডার বহনের অতিরিক্ত খরচ। এই দুই সমস্যারই কার্যকর সমাধান খুঁজে পেয়েছেন মেটেলি ব্লকের আইবিল চা বাগানের মাথুরা লাইনের বাসিন্দা তথা চা শ্রমিক কৃপা হাজদা। গোবর থেকে উৎপাদিত মিথেন গ্যাস ব্যবহার করে এখন তাঁর বাড়িতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে তিনবেলার রান্না হচ্ছে।
বিনা খরচে তিনবেলা রান্না (Biogas Production)
মেটেলি ব্লকের প্রত্যন্ত আইবিল চা বাগানের মাথুরা (Biogas Production) লাইনের বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার আনতেও যেতে হয় চালসা বাজারে। ফলে সিলিন্ডারের মূল দামের পাশাপাশি পরিবহণ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। সেই সমস্যারই পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী সমাধান এনে দিয়েছে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট।
কৃপা হাজদা জানান, ২০২৫ সালে প্রসারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে মাথুরা লাইনে মোট চারটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়। সেই প্ল্যান্ট থেকেই এখন প্রতিদিন তাঁর পরিবারের রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় মিথেন গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে।

বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট
প্রতিদিন সকালে প্রায় ৩০ কেজি গোবরের সঙ্গে ৪০ লিটার জল মিশিয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সেখান থেকে উৎপন্ন হয় মিথেন গ্যাস, যা পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার চুলায় পৌঁছে যায়। এই গ্যাসেই প্রতিদিন তিনবেলার রান্না সম্পন্ন হয়। ফলে এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং পরিবারের মাসিক জ্বালানি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
শুধু আর্থিক সাশ্রয়ই নয়, এই উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গোবরের মতো সহজলভ্য উপাদানকে কাজে লাগিয়ে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার যে বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর হতে পারে, তার সফল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন কৃপা হাজদা।
আরও পড়ুন: Heavy Rain Forecast: রাজ্যজুড়ে দুর্যোগের ঘনঘটা, উত্তরে জারি রেড অ্যালার্ট, ভিজবে দক্ষিণবঙ্গও
স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ চা বাগান এলাকার অন্যান্য পরিবারের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে এ ধরনের বায়োগ্যাস প্রকল্প আরও বিস্তৃত হলে প্রত্যন্ত এলাকার বহু পরিবার কম খরচে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির সুবিধা পেতে পারে।


