Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : খেজুরিতে দুই বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক (Calcutta High Court) তদন্তকারী পুলিশ অফিসার (IO) এবং ওসি সহ অভিযুক্ত বাকি সতেরো জনের ফোন রেকর্ডিং খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ।
কী ঘটেছিল? (Calcutta High Court)
গত ১১ জুলাই মহরম উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল খেজুরি থানার ভাঙনমারি গ্রামে (Calcutta High Court) । পরের দিন অর্থাৎ গত ১২ জুলাই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় বছর তেইশের সুজিত দাস ও পঞ্চাশোর্ধ্ব সুধীরচন্দ্র পাইকের। অনুষ্ঠান স্থলের অনতিদুর থেকেই উদ্ধার হয় দু’জনের দেহ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ দাবি করে, অনুষ্ঠান চলাকালীন অসাবধানতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। যদিও, মৃতের পরিবার খুনের অভিযোগ তোলে। নিহত সুধীরচন্দ্র পাইকের ছেলে নন্দনকুমার পাইকও তাঁর বাবাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
খেজুরির ২ বিজেপি কর্মী সুজিত দাস এবং সুধীর পাইকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে আগেই জমা পড়েছিল ময়নাতদন্তের দ্বিতীয় রিপোর্ট। ময়নাতদন্তের প্রথম রিপোর্টে উল্লেখ ছিল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ বিজেপি কর্মীর। কিন্তু দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে দেহে আঘাতের কথা। রিপোর্ট দেখে রীতিমতো বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (Calcutta High Court)
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মৃত্যু হয়েছিল দুই বিজেপি কর্মীর৷ কিন্তু পরিবার তা মানতে নারাজ (Calcutta High Court) । তারা আবার ময়নাতদন্তের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। বিচারপতি ঘোষের একক বেঞ্চ ওই আবেদন খারিজ করে ময়নাতদন্ত করা চিকিৎসকের বক্তব্য রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় দুই পরিবার। পরিবারের আর্জি মেনে ডিভিশন বেঞ্চ দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি জানানো হয়, ওই মামলাটি শুনবে বিচারপতি ঘোষের একক বেঞ্চই।
দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশের প্রেক্ষিতে এসএসকেএম-এর ৩ জন চিকিৎসককে নিয়ে বোর্ডও গঠন করে দেওয়া হয়। গত ১৯ আগস্ট হাইকোর্টে দুই বিজেপি কর্মীর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা পড়ে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) ৷ এসএসকেএম হাসপাতালের সেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দুই বিজেপি কর্মীর দেহে আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়৷ দুই সরকারি হাসপাতালের দুই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এমন ফারাক দেখে আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল পুলিশকে।

আরও পড়ুন : Calcutta High Court : সামাজিক বয়কটের নামে প্রতিনিয়ত হেনস্থা! নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে শ্রীলেখা
অভিযুক্ত ১৭ জনের কল রেকর্ড (Calcutta High Court)
বুধবার সেই মামলার শুনানিতেই অভিযুক্ত ১৭ জনের কল রেকর্ড দেখতে চাইলেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court) । সেইসঙ্গে তাঁরা জানিয়ে দিলেন, এই মামলায় সিবিআই তদন্ত হবে কিনা, তা মূল মামলায় ঠিক করবে আদালত।
এদিনও শুনানিতে পুলিশের তদন্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুললেন দুই বিচারপতি। বিচারপতি বসাক পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দ্বিতীয় ময়না তদন্তের রিপোর্টে কী করে মৃতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এল? একটা মেলার মধ্যে এত বড় ঘটনা ঘটল অথচ কোনও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান পাওয়া গেল না? তাহলে সাক্ষীরা নিশ্চয়ই ভয় পাচ্ছেন। আগে তাদের ভয় দূর করুন। এই মামলায় কেস ডায়েরি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর থেকে পড়ে গিয়ে এইরকম মৃত্যু হতে পারে না।
কারণ দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পরিষ্কার উঠে এসেছে মৃতদেহ গুলির দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে (Calcutta High Court) ।’ এরপরই বিচারপতি দেবাংশু বসাক তার পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, ‘দুটো ময়না তদন্তের রিপোর্ট ভিন্ন হলে মানুষের সিস্টেমের উপর থেকে বিশ্বাসই উঠে যাবে।’ তারপরই তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন, ‘চিকিৎসক, তদন্তকারী অফিসার, পুলিশ সহ অভিযুক্ত ১৭ জনের সমস্ত মোবাইল ফোনের সমস্ত কল রেকর্ড খতিয়ে দেখুন। জি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করুন।’

আরও পড়ুন : Trump Tariff War : শুল্ক যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়া চিনের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতায় অস্বস্তিতে ট্রাম্প
সিবিআই-এর উপর আস্থা নেই আদালতের (Calcutta High Court)
গত ২৬ আগস্ট এই ঘটনার মূল মামলার শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি আর সিবিআই-এর উপর আস্থা রাখতে পারছেন না (Calcutta High Court)। ‘সিবিআই এখন গ্যালারি শো করছে’ বলে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন বিচারপতি ঘোষ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বদলে এই মামলায় রাজ্য পুলিশের উপরেই তিনি আস্থা রাখতে চান বলে জানান। গত ২৭ আগস্ট এই মামলায় সিবিআই তদন্তের আবেদন খারিজ করে রাজ্য পুলিশেই আস্থা রাখেন বিচারপতি ঘোষ।
সিআইডি-এর তত্ত্বাবধানেই খেজুরির জোড়া খুনের মামলার তদন্ত হবে বলে নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু মামলাকারীদের আইনজীবী সিবিআই তদন্তের আবেদন জানান হাইকোর্টে। কিন্তু সিবিআই তদন্তের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। পর্যবেক্ষণে বিচারপতি ঘোষ জানান, সিট গঠন করে এই মামলার তদন্ত করবে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। ডিআইজি সিআইডির নেতৃত্বে গঠিত হবে সিট। তদন্তকারী দলে থাকবেন হোমিসাইড শাখার অফিসারও। এক মাসের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে বলে জানান বিচারপতি ঘোষ।


