Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কেটিভি বাংলা ডিজিটাল : হাইকোর্টে (Calcutta High Court) সাময়িক স্বস্তি পেলেন সবংয়ের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া। তাঁকে শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর নির্দেশ, মানস ভূঁইয়া সহ বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনই গ্ৰেফতার বা কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে মানস ভূঁইয়া সহ বাকিদের। পুলিশের কাছে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে এবং তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া সবংয়ের বাইরে যেতে পারবেন না মানস ভূঁইয়া।
চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ (Calcutta High Court)
চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ওঠে মানস ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। গ্রেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূলের ছোট-মাঝারি এমনকি বড় নেতা, কাউন্সিলর, মন্ত্রীরা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। প্রাক্তন সরকারের আমলের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে চলছে পুলিশি এবং সিআইডি তদন্ত। সেই আশঙ্কায় তৃণমূলের তাবড় তাবড় নেতা, প্রাক্তন বিধায়ক এবং প্রাক্তন মন্ত্রীরা হাইকোর্টে ছুটছেন রক্ষাকবচের আবেদন করে। সেই তালিকায় যুক্ত হয় তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তথা সবংয়ের সাতবারের বিধায়ক মানস ভূঁইয়ার নাম।
সবং থানায় দায়ের এফআইআর (Calcutta High Court)
সম্প্রতি চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে সবং থানায় দায়ের হয় এফআইআর। বিএনএস-এর ৩১৮(৪) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই পুলিশ তাঁকে নোটিশও পাঠিয়েছে। তাই গ্রেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন মানস ভূঁইয়া। গত ২৪ জুন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর এজলাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। মামলা দায়ের এর অনুমতি দেন বিচারপতি আগামী সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা।
আরও পড়ুন : Taslima Nasrin: তসলিমার কলকাতায় ফেরা নিয়ে এবার নতুন সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন
পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি
সবংয়ের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা বিকাশ কুমার টুং দবি করেন, তাঁর স্ত্রী মঞ্জু সাহু টুংকে সেচ দফতরের বাংলোতে পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়ার মধ্যস্থতায় তৃণমূল নেতা শেখ আবু কালাম বক্স ও ভোলানাথ দে’র মাধ্যমে পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। গত ১ মার্চ তেমাথানির সেচ বাংলোয় কাজে যোগ দেন মঞ্জু সাহু টুং। চাকরি পাওয়ার পর খাতায় সই করে মার্চ মাসের বেতন বাবদ প্রায় ১১ হাজার টাকা পান তিনি। কিন্তু গত ৬ মে কর্মস্থলে গেলে তাঁকে রেজিস্টার খাতায় সই করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁর চাকরি বাতিলের নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই সামাজিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে বাধ্য হন তিনি।
আরও পড়ুন : Chandannagar Light: বিশ্বখ্যাত চন্দননগরের আলোয় সাজবে তারকেশ্বর
হাইকোর্টে স্বস্তি মানস ভূঁইয়ার
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সবং থানার পুলিশ মানস ভূঁইয়াকে নোটিশ পাঠায়। সেই নোটিশ পেয়েই মেদিনীপুর জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন প্রাক্তন সেচমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর সেই আবেদনের মামলার শুনানি কোনও কারণে স্থগিত হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে গ্ৰেফতারির আশঙ্কা করে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল সরকারের সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া। সেই মামলায় সোমবার হাইকোর্টে কিছুটা স্বস্তি পেলেন মানস ভূঁইয়া।



