Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১২ জুলাই ২০২৬, রবিবার দমদমের থিয়াপিক্স হলে অনুষ্ঠিত হল বহুল প্রতীক্ষিত ‘সোনার বাংলা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ (Sounita Publication)। ঘরোয়া পরিবেশে আয়োজিত হলেও অনুষ্ঠানটি ছিল মর্যাদা, আন্তরিকতা ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাহিত্যিক, শিল্পী, সমাজসেবী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুণী মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্মাননা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে ওঠে।

দক্ষ পরিকল্পনায় সফল আয়োজন (Sounita Publication)
সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন শান্তনু মুখার্জী এবং মৌমিতা ব্যানার্জী। তাঁদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি পর্বে ছিল পরিমিতি, সৌন্দর্য এবং অতিথিদের প্রতি আন্তরিক সম্মান।

গুণীজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান পেল বিশেষ মর্যাদা
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সঞ্চালনায় ছিলেন শুভাঙ্গী বারিক, যিনি সাবলীল উপস্থাপনার মাধ্যমে গোটা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী তন্ময় কর তাঁর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক আবহকে আরও সমৃদ্ধ করেন। সিউড়ি বেণীমাধব ইনস্টিটিউশনের প্রাক্তন শিক্ষক দোল গোবিন্দ বাগদী তাঁর অভিজ্ঞতা ও বক্তব্যের মাধ্যমে সকলকে অনুপ্রাণিত করেন। সহকার ভারতীর বীরভূম জেলা সভাপতি রঞ্জন কুমার মজুমদার সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে সম্মাননার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশিষ্ট সমাজসেবক অয়ন পাল সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতি সকলকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সম্মাননার মধ্য দিয়ে প্রতিভার স্বীকৃতি (Sounita Publication)
‘সোনার বাংলা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানানো। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতী মানুষদের সম্মানিত করা হয়। এই সম্মাননা শুধুমাত্র একটি পুরস্কার নয়, বরং সমাজের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা।
সংগ্রাম থেকে সাফল্যের পথে (Sounita Publication)
এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান সংগঠক মৌমিতা ব্যানার্জী আজ বহু মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। টাকিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মৌমিতা বর্তমানে কর্মসূত্রে দমদমে বসবাস করেন। তিনি একাধারে একজন প্রকাশক, সম্পাদক, নৃত্যশিল্পী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই তিনি নতুন কিছু করার সাহস দেখিয়েছেন। তিনি জানান, কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নয়, বরং সৃজনশীল চিন্তা থেকেই তাঁর প্রতিটি নতুন উদ্যোগের জন্ম। প্রথমে লেখালেখি, তারপর সম্পাদনার কাজ এবং সেখান থেকেই নিজের প্রকাশনী প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ তিন বছর ধরে সফলভাবে তিনি তাঁর প্রকাশনী পরিচালনা করছেন। শুধু প্রকাশনীতেই থেমে থাকেননি; দুই বছর পর তিনি নিজস্ব ছাপাখানা (প্রেস) প্রতিষ্ঠা করেন এবং আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র সংগ্রহ করেন। বর্তমানে সেই প্রেসের দায়িত্ব তাঁর হবু স্বামীর নামে পরিচালিত হচ্ছে। একসময় অনেকে মনে করতেন প্রকাশনা ব্যবসা শুধুমাত্র পুরুষদের ক্ষেত্র। নানা কটূক্তি ও সংশয়ের মুখোমুখি হতে হলেও তিনি কখনও পিছিয়ে যাননি। নিজের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন—যোগ্যতার কোনও লিঙ্গভেদ হয় না।

নৃত্যের মঞ্চে অবিচল অধ্যবসায় (Sounita Publication)
প্রকাশনার পাশাপাশি নৃত্যজগতেও মৌমিতা ব্যানার্জীর পথচলা সমান উজ্জ্বল। এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। নানা প্রতিবন্ধকতা, প্রতিকূলতা ও ছলচাতুরীর মধ্য দিয়েও তিনি এবং তাঁর মা কখনও হাল ছাড়েননি। তাঁর মায়ের নিরন্তর উৎসাহ ও ত্যাগই আজকের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। বর্তমানে তিনি সুর ভারতী সঙ্গীত কলা কেন্দ্রের পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী বছর থেকে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের নৃত্য-অনুষ্ঠানে কোরিওগ্রাফার হিসেবেও কাজ শুরু করবেন। করোনা অতিমারির সময় তিনি জাতীয় স্তরের অনলাইন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

একের পর এক সম্মান ও স্বীকৃতি (Sounita Publication)
নৃত্য ও সংস্কৃতির জগতে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে তিনি আসাম থেকে ‘নৃত্যবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হন। এছাড়া ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে পরপর দুই বছর গুরাপ থেকে ‘বঙ্গরত্ন অনন্য সম্মান’ লাভ করেন। প্রকাশনা জগতেও তাঁর সাফল্য সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার পাশাপাশি মুম্বই ও মহারাষ্ট্র থেকে দুইবার সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনও স্বপ্নই অসম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: Taslima Nasrin: তসলিমার কলকাতায় ফেরা নিয়ে এবার নতুন সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন
নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার বার্তা
‘সোনার বাংলা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ শুধু একটি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল প্রতিভা, পরিশ্রম, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক মিলনমঞ্চ। বিশেষ করে মৌমিতা ব্যানার্জীর সংগ্রাম, সৃজনশীলতা ও সাফল্যের কাহিনি উপস্থিত সকলকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে এবং নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকার প্রেরণা জুগিয়েছে।



