Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (Bengal Polls) ঘিরে রণসজ্জা চূড়ান্ত করছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটদান নিশ্চিত করতে এবার কার্যত দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল উপস্থিতি আর আধুনিক প্রযুক্তির হাই-টেক নজরদারিতে এবার রেকর্ড গড়তে চলেছে কমিশন। রাজভবন থেকে নবান্ন, সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রে কমিশনের এই নজিরবিহীন প্রস্তুতি।
বাহিনীর মহড়া ও কৌশল (Bengal Polls)
রাজ্যে ভোট ঘোষণার আগেই পৌঁছে গিয়েছে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, যারা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় রুট মার্চ ও টহলদারি শুরু করেছে। কমিশন সূত্রে খবর, দফায় দফায় আরও প্রায় ২ হাজার কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে আসার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটের (Bengal Polls) দিনগুলোতে প্রায় আড়াই লক্ষ জওয়ান মোতায়েন থাকতে পারেন, যা এযাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম মোতায়েন। রবিবারও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে বাহিনী বিন্যাস ও সমন্বয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Kolkata Temperature: চৈত্রের ঘূর্ণাবর্তে ভিজল বাংলা! এক ধাক্কায় ১১ ডিগ্রি নামল কলকাতার পারদ
এবারের নির্বাচনে নজরদারির প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে প্রযুক্তি। রাজ্যের মোট ৮০,৭১৯টি বুথেই ১০০ শতাংশ ‘ওয়েবকাস্টিং’-এর ব্যবস্থা থাকছে (Bengal Polls)। অর্থাৎ, প্রতিটি বুথের ভেতরের দৃশ্য সরাসরি কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকে দেখা যাবে। বুথের ভেতর ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ সিসি ক্যামেরা সক্রিয় থাকবে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও বুথে যদি টানা আধঘণ্টার বেশি ওয়েবকাস্টিং বন্ধ থাকে, তবে সেখানে নিয়ম মেনে পুনর্নির্বাচন করানো হবে। প্রয়োজনে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোনের ব্যবহারও করা হবে।
কড়া হাতে রাশ ও কুইক রেসপন্স
মাঠে থাকা ফ্লাইং স্কোয়াড (FST) ও কুইক রেসপন্স টিম (QRT)-এর গাড়িতে লাগানো থাকছে ৩৬০ ডিগ্রি পিটিজেড ক্যামেরা। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের শরীরেও থাকবে ‘বডি ক্যামেরা’, যাতে অশান্তির খবর পাওয়ামাত্রই লাইভ স্ট্রিমিং দেখে ব্যবস্থা নেওয়া যায় (Bengal Polls)। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরে রদবদলের পর তৈরি করা হয়েছে একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’, যা ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে।
আরও পড়ুন: Mamata Commission: ‘ঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন রাজ্যে’, কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে রণংদেহি মেজাজে মমতা
জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও পুলিশ সুপারদের প্রতি কমিশনের বার্তা অত্যন্ত কঠোর। ভোটারদের ভয় দেখানো বা বাধা দেওয়ার কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে সরাসরি সাসপেন্ড বা অপসারণ করা হবে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের কঠোরতম ধারা প্রয়োগ করতেও পিছপা হবে না কমিশন। সব মিলিয়ে, পেশিশক্তি রুখতে এবার প্রযুক্তির ঢাল আর জওয়ানের বুট, এই দুইয়ের ওপরই ভরসা রাখছে নির্বাচন কমিশন।


