\ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আগের দিনের ছেলেমেয়েদের বড় (Child Care) করে তোলার রীতি ছিল একেবারে স্পষ্ট-বকুনি, ধমক, এমনকি কখনও কখনও মারধোরও ছিল স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু সময় বদলেছে। ছোট ছোট পরিবারে এখন শিশুরা বেড়ে ওঠে একা, এবং তাদের মানসিক জগৎ আগের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল ও জটিল। তাই শিশুকে শুধুমাত্র ধমক দিয়ে ‘শুদ্ধ’ করার পদ্ধতি আর কার্যকর হচ্ছে না-বরং তা ক্ষতি ডেকে আনছে, বলছেন মনোবিদেরা।
স্নেহময় আশ্রয় আর সহজে মেলে না (Child Care)
এক সময় ছিল, বাবা-মা বকলেই ঠাকুমা-দাদু বা পরিবারের অন্য সদস্যরা (Child Care) এসে আগলে নিতো ছোটটিকে। এখন পরিবারগুলো নিউক্লিয়ার হওয়ায় সেই স্নেহময় আশ্রয় আর সহজে মেলে না। ফলে শিশুর অভিমান, অপমান, কিংবা জেদ জমে থাকতে পারে নিঃশব্দে। তাই সময় এসেছে অভিভাবকদের ভাবনার পদ্ধতি বদলানোর। ২০২৫ সালে ‘দ্য জার্নাল অফ ফ্যামিলি সাইকোলজি’-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শিশুর সঙ্গে অভিভাবক কীভাবে কথা বলছেন, তার শব্দচয়ন, সুর ও ভঙ্গিমা শিশুমনে গভীর ছাপ ফেলে। একাধিক মনোবিদও এই বিষয়ে একমত।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে-
তাহলে বোঝাবো কীভাবে? (Child Care)
. 1. খেলার মাঠে না-ফেরার গল্প: অনেক সময় শিশুরা পার্ক বা (Child Care) খেলার জায়গা থেকে বাড়ি ফিরতে চায় না। তখন ধমক না দিয়ে বলা যেতে পারে, “সন্ধ্যা হয়ে গেছে, এখন পার্ক বন্ধ হবে। এবার আমাদের বাড়ি ফিরতে হবে।” এতে নির্দেশ নয়, সহযোগিতার সুর থাকে।
- তুলনা নয়, উৎসাহ: অন্য ভাই বা বন্ধুর সঙ্গে তুলনা করে শিশুর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেবেন না। বরং তার নিজস্ব গুণগুলিকে প্রশংসা করুন। যেমন, “তুমি দারুণ আঁকো, অঙ্কটা একটু কষ্ট করলে সেটাও পারবে!”
- কান্না থামাতে নয়, বোঝাতে শিখুন: “কেঁদো না” না বলে বলুন, “তোমার সমস্যা আমরা একসঙ্গে বুঝে নেব”। এতে শিশু বোঝে, তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
- ‘বুঝবে না’ নয়, ‘বোঝার চেষ্টা করো’: শিশুদের যুক্তিবোধ থাকে। তাদের ‘ছোট’ ভেবে অবজ্ঞা না করে যুক্তি দিয়ে বিষয়টি বোঝালে ফল ভালো হয়।
আরও পড়ুন: Thalapaty Vijay: বোমাতঙ্ক বিজয়ের চেন্নাইয়ের বাড়িতে, করুর কাণ্ডের পর নিরাপত্তায় কড়াকড়ি!
- নেতিবাচক শব্দ নয়, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ভাষা: “তুমি ফাঁকিবাজ”, “তোমার দ্বারা কিছু হবে না”—এই কথা শিশুর মন ভেঙে দেয়। তার বদলে বলুন, “তুমি একটু চেষ্টা করলেই পারবে, আমি জানি।”
একটি শিশুর মন কোমল মাটির মতো। তাকে যেমন গড়ে তুলবেন, সে তেমনই হয়ে উঠবে। তাই বকাঝকা নয়, ভরসা আর বোঝাপড়ার হাত ধরেই হোক আগামী প্রজন্ম গড়ার যাত্রা।


