Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার অন্যতম আকর্ষণীয় দুর্গাপুজো চোরবাগান সর্বজনীনের (Chorbagan Sarbojonin) মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের আবহের মধ্যেই সামনে আসছে পুজো কমিটির রদবদল ঘিরে নানা তথ্য। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে পুজো পরিচালনার দায়িত্বে পরিবর্তন, এক মাসের মধ্যে দু’বার খুঁটিপুজো এবং কমিটির পদাধিকারীদের নিয়ে বিতর্ক-সব মিলিয়ে ঘটনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্ঘটনার সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
খুঁটিপুজোর আয়োজন (Chorbagan Sarbojonin)
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুলাই প্রথমবার খুঁটিপুজোর (Chorbagan Sarbojonin) আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় ও বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর পুরনো কমিটি ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নতুন কমিটিতে বিজেপির একাধিক নেতার উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। পরে ২৯ জুলাই দ্বিতীয়বার খুঁটিপুজো হয়।
পদ ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল (Chorbagan Sarbojonin)
চোরবাগান সর্বজনীনের (Chorbagan Sarbojonin) প্রাক্তন কার্যকরী সভাপতির অভিযোগ, তাঁকে পদ ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে আসা একদল ব্যক্তি পুজোর দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানানোর পর তিনি পদত্যাগ করেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রামাণ্য তথ্য সামনে আসা জরুরি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এদিকে, দুর্ঘটনার দায় নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা এবং মণ্ডপের নকশায় ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় পুলিশেরও প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে আগেই সতর্ক করা উচিত ছিল বলে তাঁর বক্তব্য।
ঘটনার পর সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে পুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেধা এবং সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: DESU 7 Film Review: ভরপুর অ্যাকশন, রোম্যান্সে মাখামাখি, কেমন হল দেবের দেশু ৭?
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তার ঘাটতি কোথায় ছিল? প্রশাসন ও আয়োজকদের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। ১৯টি প্রাণহানির ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় রোখাই এখন সবচেয়ে জরুরি।


