Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পর দুর্গাপুজোর মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা আরও কড়া করল কলকাতা পুলিশ (Lalbazar)। ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে দর্শনার্থীদের গতিবিধি—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মণ্ডপের ভিতরে সেলফি তোলা, ছবি বা ভিডিয়ো করার উপর নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
চোরবাগান কাণ্ডের পর বাড়তি সতর্কতা (Lalbazar)
চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর উৎসবের বাকি দিনগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে বিপুল দর্শনার্থীর চাপ সামলানো এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই মণ্ডপে প্রবেশ, বেরনো এবং ভিড়ের গতিবিধির উপর বাড়তি নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মণ্ডপের ভিতরে ছবি-ভিডিয়োতে নিষেধাজ্ঞা (Lalbazar)
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মণ্ডপের ভিতরে সেলফি তোলা, ছবি বা ভিডিয়ো করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মণ্ডপের ভিতরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে গিয়ে যাতে দর্শনার্থীদের চলাচলে বাধা তৈরি না হয়, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রচারের দায়িত্ব পুজো কমিটির (Lalbazar)
নতুন নির্দেশ যাতে প্রত্যেক দর্শনার্থীর কাছে পৌঁছে যায়, তার জন্য পুজো কমিটিগুলিকে মাইকে বারবার ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের মাধ্যমে পুজো কমিটিগুলির কাছে পুলিশের অডিয়ো বার্তাও পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই বার্তায় দর্শনার্থীদের নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানানো হবে।
নির্দেশ অমান্য করলে বাজেয়াপ্ত হতে পারে মোবাইল
পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে মণ্ডপের ভিতরে ছবি বা ভিডিয়ো করলে মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি, বাজেয়াপ্ত হওয়া মোবাইল নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র ও পরিচয়পত্র দেখিয়ে পুজোর পর সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
নিরাপত্তায় একাধিক কড়া নির্দেশ (Lalbazar)
মণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ সবসময় বাধামুক্ত রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম বা মাইকের ব্যবহারের উপর পুলিশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। পুজো কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি একজন পুলিশ কনস্টেবল রাখার নির্দেশের কথাও উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: Rabindranaga: রবীন্দ্রনগরে সিপিআইএমের পার্টি অফিস ও বুক স্টলে ভাঙচুর
উৎসবের বাকি দিনগুলিতে নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার
চোরবাগানের ঘটনার পর প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা। পুলিশ ও পুজো কমিটির মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখা, জরুরি নির্গমনপথ সচল রাখা এবং ভিড়ের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উৎসবের আনন্দ যাতে কোনওভাবেই দুর্ঘটনার ছায়ায় ঢাকা না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এবার মণ্ডপগুলিতে আরও কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে লালবাজার।
পুজো প্যান্ডেল ডিউটি সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশ
সকল OC ও AC দের বড় পুজো প্যান্ডেল পরিদর্শন করতে হবে এবং নিম্নলিখিত বিষয়গুলি নিশ্চিত করতে হবে:
১) প্যান্ডেলের সমস্ত বাহির হওয়ার রাস্তা যেকোনো রকম বাধা থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
২) প্যান্ডেলের ভিতরে ও বাইরে কঠোরভাবে সুষ্ঠু ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।
৩) বৃষ্টির ক্ষেত্রে প্যান্ডেলের প্রবেশ পথ বন্ধ করে প্যান্ডেল খালি করে দিতে হবে। প্যান্ডেলের ভিতরে কোনো জমায়েত করতে দেওয়া যাবে না। বৃষ্টির সময় প্যান্ডেলকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
৪) প্যান্ডেলের ভিতরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। আলো কম থাকলে তৎক্ষণাৎ তা বন্ধ করে পরিষ্কার আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৫) ভিড় চলাচলের পরিকল্পনা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে এবং কোনো সন্দেহ দেখা দিলে চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে।
৬) বৃষ্টির সময় ডিউটিতে থাকা কোনো অফিসার ডিউটির স্থান ত্যাগ করবেন না। পুজোর ডিউটি চলবে এবং মানুষকে প্যান্ডেল দেখতে দিতে হবে, এর দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।
৭) কোনো VVIP-এর গাড়ি প্যান্ডেল পর্যন্ত যেতে দেওয়া যাবে না, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
৮) সকলকে অবগত করা হচ্ছে যে ডিউটিতে থাকা সকল পুলিশ কর্মীকে রেইনকোট সাথে রাখতে হবে এবং বৃষ্টি হলেও ডিউটি পোস্ট ত্যাগ করা যাবে না। সমস্ত সুপারভাইজিং অফিসাররা বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন।
৯) পুজো কমিটির PA সিস্টেমে করা ঘোষণার উপর নজর রাখতে হবে, হঠাৎ করে ভিড় চলাচলের পরিকল্পনা পরিবর্তন বা ভিড় চলাচল বন্ধ করা যাবে না।
১০) প্রত্যেক অফিসার/কনস্টেবলের সাথে ৫-৬ জন পুজো ভলান্টিয়ারের টিম ট্যাগ করে দিতে হবে।
১১) পর্যাপ্ত পরিমাণে দড়ি, গার্ড রেল, লাউড হেইলার বা ছোট স্পিকার মজুত রাখতে হবে।



