Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়ায় আবারও নৃশংস সহিংসতার ঘটনা ঘটল। শনিবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাওকা (Colombia Blast) অঞ্চলে যাত্রীবাহী একটি বাসে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাটি ঘটে প্যান আমেরিকান হাইওয়ে ধরে বাসটি চলার সময়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাসটি মুহূর্তের মধ্যে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৮ জন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও সাধারণ যাত্রীদের সংখ্যাই বেশি বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

বিস্ফোরণের নেপথ্যে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ (Colombia Blast)
ঘটনার পরই কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী এটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে ঘোষণা করে। দেশটির সেনা কমান্ডার জেনারেল হুগো লোপেজ জানিয়েছেন, এটি পরিকল্পিত হামলা এবং এর পেছনে সংগঠিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ করা হচ্ছে, এই হামলার সঙ্গে মাদক পাচারকারী চক্রগুলির যোগ থাকতে পারে। বিশেষ করে কুখ্যাত দুই গ্যাং ইভান মোরডিস্কোর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং জাইমে মার্টিনেজ গ্যাং—এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শান্তিচুক্তি সত্ত্বেও থামছে না সহিংসতা (Colombia Blast)
২০১৬ সালে কলম্বিয়া সরকার কয়েকটি বিদ্রোহী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতার অবসান ঘটানো। কিন্তু বাস্তবে সেই চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। সরকারি সূত্রের দাবি, এই গোষ্ঠীগুলোর একাংশ এখনো মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। ফলে শান্তি প্রক্রিয়া বারবার ভেঙে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষ বারবার আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রেসিডেন্টের কড়া প্রতিক্রিয়া (Colombia Blast)
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা নিরীহ সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে আদিবাসী জনগণকে হত্যা করছে, তারা কেবল সন্ত্রাসীই নয়, তারা ফ্যাসিস্ট এবং মাদক পাচারকারী চক্রের অংশ। সরকার জানিয়েছে, দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: Narendra Modi: ঠাকুরনগরের সভা থেকে মেসিকাণ্ডের জন্য মুখ খুললেন মোদি
দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়ায় বাড়ছে সহিংসতা
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দুই দিনে দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়ায় অন্তত ১১৬টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ এবং সশস্ত্র হামলা। এই পরিস্থিতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে অতিরিক্ত মোতায়েন করা হয়েছে।



