Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার শুনানি বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে(Ritabrata LOP Challange)।
ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দাবি (Ritabrata LOP Challange)
বিধানসভার স্পিকারের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ দাবি করার পাশাপাশি যাতে মামলার ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার যেন কোনও আসন বন্টন না করতে পারেন, সেই আবেদন করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলাকারীর প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় চেয়ে নেন রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য। আদালত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিলেও মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ জুন।
এদিনের শুনানিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্থগিতাদেশ চেয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন দীর্ঘ কাল ধরে বিধানসভার রীতি মেনে বিরোধী দলনেতা নিয়োগ করা হয়। ১৫ মে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বাগত ভাষণও দিয়েছেন মামলাকারী। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। কথা বলেন। স্পিকার তাঁকে বিরোধী দলনেতা বলে সম্বোধন করেন। রেজেলিউসন হয় ৬ মে। ৬৪ জন বিধায়করা ১৯ মে এসে সই করেন।
বিচারপতির এক প্রশ্নের উত্তরে কল্যাণ বলেন বাকি কয়েকজন সই জালের অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। তা অধ্যক্ষকে জানানো হয়। ৩ জুন বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক জানান, ৫৯ জন বিধায়ক সই করে অন্য একজনকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে(Ritabrata LOP Challange)। সেই সিদ্ধান্তকে স্পিকার স্বীকৃতি দেন। এই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কে বিরোধী দলনেতা ঠিক করে? বিরোধী দল? আইন কী বলছে?
প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন আইন বলছে, বিধানসভার প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে। রাজনৈতিক দল কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি কাউকে বহিষ্কার করা হয়, সেই ব্যক্তি যে দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল বহিষ্কার করেছে। যদি কোনও রাজনৈতিক দলের থেকে নিরপেক্ষ সদস্য বেশি হয় তাহলে কী হবে? বিরোধী দলনেতা করতে গেলে সেই দলের কমপক্ষে ৩০ বিধায়ক থাকতে হবে। কিন্তু এরা তো সকলেই প্রধান বিরোধী দলের হয়েই নির্বাচিত হয়েছেন(Ritabrata LOP Challange)।
যদি আমার রাজনৈতিক দল যদি অন্য কোনও জাতীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে যায়, আর যদি সেই দলের বিধায়করা সেই দলে যেতে না চান, তাহলে তারা একটা গ্ৰুপ। কোনও রাজনৈতিক দল নয়। তখন তাদের মধ্যে থেকে কাউকে বিরোধী দলনেতা বা মন্ত্রী করা হয় বা যে কোনও পদ দিলে, তাতে কোনও আপত্তি নেই। বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। আসন, ঘর বরাদ্দ করার ব্যাপার রয়েছে। স্পিকার হাউজ চালান সততার সঙ্গে। স্পিকার জাতির স্বাধীনতার মুখ। দল তাঁকে জানাবে। এটাই রীতি। এই রীতির বাইরে কেউ যেতে পারে না(Ritabrata LOP Challange)।
আরও পড়ুন: Manipur Atrocities: মণিপুরে অপহৃত ৬ নাগা যুবকের দেহ উদ্ধার, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
কল্যাণ বলেন স্পিকারের তদন্তের এক্তিয়ার সীমিত। তিনি শুধু তদন্ত করে দেখতে পারেন রাজনৈতিক দলটি নতুন কী না। কিন্তু, কে সেই করেছে, কে করেনি-এর তদন্ত করতে পারেন না স্পিকার। রাজনৈতিক দল তার সংবিধান মেনে যাঁকে বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচিত করবে, সেটাকেই স্পিকারকে মান্যতা দিতে হবে। কিন্তু, এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। দু’জনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে কী করে একজনকে বিরোধী দলনেতা করে দেওয়া হল?? এটা একটা গণতান্ত্রিক হাউজ। আমাদের দলের ৮০ জন বিধায়ক। এটা গণতন্ত্রের শিকড়। তাই আদালতের কাছে আমার আবেদন, এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক। ১৮ জুন অধিবেশন শুরু। এই সময়ের মধ্যে যেন স্পিকার কোনও আসন বন্টন না করেন(Ritabrata LOP Challange)।
অ্যাডিশনাল এজি বিল্লদল ভট্টাচার্য বলেন তিনি বৃহস্পতিবারই ফাইল পেয়েছেন। একটু সময় দেওয়া হোক। ১৬ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি।



