Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি এলাকায় বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হল এক ব্যক্তির (Champahati)। মৃতের নাম গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায় (৩৫)। শনিবার গভীর রাতে টালিগঞ্জের এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া।

শনিবার দুপুরে কেঁপে ওঠে চম্পাহাটি (Champahati)
শনিবার ঘড়িতে তখন প্রায় দুপুর ১টা। চম্পাহাটির একটি বাজি কারখানায় স্বাভাবিক কাজ চলছিল। আচমকাই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরপর অন্তত দু’ থেকে তিনবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কারখানার একাংশ ধসে (Champahati)
বিস্ফোরণের অভিঘাতে বাজি কারখানার একাংশ ধসে পড়ে। ছাদের অ্যাসবেস্টস টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, আশপাশের অন্তত তিনটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এলাকায় ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু (Champahati)
বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভিতরে কাজ করছিলেন চারজন শ্রমিক। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন পিয়ালি এলাকার বাসিন্দা গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায়। বিস্ফোরণে তাঁর শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ আগুনে ঝলসে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় রাতেই তাঁকে এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শেষরক্ষা হয়নি শনিবার গভীর রাতে মৃত্যু হয় তাঁর।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও দুই আহত (Champahati)
এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। তাঁদের মধ্যে কিষাণ মণ্ডল এবং রাহুল মণ্ডল-এর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। কিষাণ মণ্ডলের চিকিৎসা বর্তমানে এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালেই চলছে। চিকিৎসকরা তাঁদের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কারখানার মালিক পলাতক? (Champahati)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজি কারখানার মালিকের নাম বিধান মণ্ডল। তবে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনায় মালিকের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন : Bangladesh: বিএনপির চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান: নির্বাচনের আগে পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ, দাবি রাজনৈতিক মহলের
শুরু হয়েছে পুলিশি তদন্ত
ঘটনার খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। কী কারণে এই বিস্ফোরণ, আদৌ কোনও নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারখানার বৈধ লাইসেন্স ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



