Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মুম্বইকে হেলায় হারিয়ে জয়ে ফিরল চেন্নাই (CSK)।
সঞ্জুর পর আকিলের ভেল্কি (CSK)
নামে যাঁর ইনকিলাব, সে যে বিপ্লব আনবে এটা অত্যাশ্চর্যের কিছু নেই। তবে আজকের সাম্রাজ্য গড়ার সুচনাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। কলকাতায় সামান্য কিছু টাকার চাকরি করা যুবক তখন মায়ানগরীর স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্নের পথে আসতে থাকে একের পর এক প্রত্যাখ্যান। সালটা ১৯৬৮, প্রখ্যাত ফিল্ম পরিচালক শ্রাভন কুমার টাকের সঙ্গে পরিচয়, তিনি সেই সময় মির্জা গালিবের চরিত্র এই লম্বা যুবককে দেওয়ার কথা ভেবে ফেলেছেন। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠরা তাকে বোঝান যে গালিবের চরিত্রে এই যুবক মানানসই নন কারণ দৈহিক গঠন (CSK)।
এরপরে বি আর চোপরা স্ক্রিন টেস্ট নিতে রাজী হলেন এই তরুণের। কিন্তু তারপরে মি. চোপরার কাছ থেকে আর কোনও সাড়া পান নি তিনি। আজ যে ব্যারিটোন ভয়েস সবার কাছে জনপ্রিয়, একবার শুনলেই মনে হয় যেন গভীরে ছাপ ফেলে যায়। রেডিও-তে বা চোখ বন্ধ করে যে গলার স্বর শুনলেই শিহরিত হন দর্শকরা সেই গলার ভয়েস রিজেক্ট করেছিল আকাশবাণী।
এরপর আসে ১৯৭৩ সাল। প্রকাশ মেহেরা তখন ‘জঞ্জির’ বানাচ্ছেন। প্রথম পছন্দ ছিল সেই সিনেমার জন্য ধর্মেন্দ্র, রাজকুমার আর দেবানন্দ। কিন্তু সবাই সরে দাঁড়ালেন এবং সেই সময় জাভেদ আখতারের মনে আসে সেই লম্বা যুবকের কাছে। যার চোখে মুখে এক জেদ এবং ক্রোধ রয়েছে। যার এর আগে টানা কয়েকটি সিনেমা ফ্লপ। সেই ফ্লপ অমিতাভের কাছে গেলেন চরিত্রের অফার নিয়ে আর তিনি রাজি হয়ে গেলেন। বাকিটা ইতিহাস। বলিউড পেয়ে গেল অ্যাংরি ইয়ং ম্যান অমিতাভ বচ্চনকে।
এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক হিট, বলিউডে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অ্যাংরি ইয়ং ম্যান। কিন্তু শুরুতে যে প্রত্যাখ্যান তিনি পেয়েছিলেন সেগুলো হয়ত ভোলেননি আর সেগুলোই তাঁকে তৈরি করেছে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার। ২২ গজে দীর্ঘদিন স্কোয়াডে বসে অপেক্ষা করতে হয়েছে ভারতের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানো নায়ক সঞ্জুকে। কিন্তু তিনি ভাঙে পড়েননি, অপেক্ষা করেছেন আর যখন সুযোগ পেয়েছেন নিজেকে প্রমাণ করেছেন (CSK)।

আইপিএল-এর এল ক্লাসিকো বলা হয় মুম্বই বনাম চেন্নাইয়ের ম্যাচকে। আইপিএল-এর ইতিহাসে এই প্রথমবার মুম্বই এবং চেন্নাই মুখোমুখি হল ধোনি এবং রোহিত শর্মাকে ছাড়া। আর সেই ম্যাচে মুম্বইয়ের দুর্গ চূর্ণ করে দাপুটে জয় ছিনিয়ে আনল চেন্নাই। যার পিছনে ব্যাট হাতে যে নায়কের অবদান রয়েছেন তিনি আর কেউ নন সেই সঞ্জু স্যামসন। একদিকে যখন ভারতীয় সিনেমা অমিতাভের দাপট দেখছে সেই সময় উঠে আসছেন আরেক নায়ক মিঠুন চক্রবর্তী। তিনিও বহু অপমনা সহ্য করে নিজের সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন। এরপর ‘অগ্নিপথ’ সিনেমায় স্ক্রিন ভাগ করলেন এই মহারথী, পেলেন জাতীয় পুরস্কার। মুম্বই বনাম চেন্নাইয়ের ম্যাচে ব্যাট হাতে দাপট দেখালেন সঞ্জু আর বল হাতে ভেলকি দেখালেন আকিল হোসেন। গতকালের ম্যাচে অমিতাভ যদি সঞ্জু হন তবে মিঠুন হলেন আকিল হোসেন (CSK)।

ম্যাচে প্রথম ব্যাট করে চেন্নাই সুপার কিংস। জয়ের প্রথম ধাপ লেখার শিল্পী সঞ্জু স্যামসন। ৫৪ বলে তাঁর অনবদ্য সেঞ্চুরির সাক্ষী থাকল ক্রিকেট সমর্থকরা। তিনি বাদে আবার দলের কেউ রান পাননি। ঋতুরাজ ১৪ বলে ২২ এবং ব্রেভিস ১১ বলে ২১ রান করেন। কিন্তু ২০ ওভারের শেষে চেন্নাইয়ের ২০৭ রানের পিছনে রয়েছে সঞ্জুর ইনিংস। দিন মুম্বইয়ের বোলারদের ব্যর্থতাও ছিল মুম্বইয়ের ম্যাচ হারের অন্যতম কারণ (CSK)।

আরও পড়ুন: Election Commission of India: ভোটের আগে হিঙ্গলগঞ্জে ওসি সাসপেন্ড
রান তাড়া করতে নেমে দানিশ মালেওয়ার গোল্ডেন ডাক হন। আকিল হোসেনের বলে সঞ্জুর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। কুইন্টন ডি কক আউট হন ৭ রান করে। এরপর সবাইই ফ্লপ। সূর্যকুমার যাদব ৩৬ এবং তিলক ভর্মা করেন ৩৭ রান। বাকি কেউ দুই অঙ্কের রানই করতে পারেননি। হার্দিক পান্ডিয়াও এই ম্যাচে ব্যর্থ হলে আর এই হারের পর তাঁর পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের এই ব্যাটিং বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছেন আকিল হোসেন। তিনি একই তুলে নেন চার উইকেট। ৪ ওভার বল করে ১৭ রান দেন যার মধ্যে রয়েছে একটি মেডেন ওভার। দুটি উইকেট নেন নূর আহমেদ। একটি করে উইকেট নেন মুকেশ চৌধরি, অংশুল কম্বোজ, জেমি ওভারটন ও গুরজাপনীত সিং। ঈদে দাপটে মুম্বইয়ের ইনিংসের পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯ নাভির শেষে ১০৪ রানে। ১০৩ রানের দাপুটে জয় তুলে নিল চেন্নাই। ম্যাচ সেরা হন সঞ্জু (CSK)।


