Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : বছরের পর বছর ধরে পলি জমে দেশের অধিকাংশ বাঁধ এবং জলাধারের ধারণক্ষমতা ভয়ঙ্করভাবে কমে গিয়েছে (Dam And Reservoir) । ভোপালের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইএসইআর)-এর এক সমীক্ষা জানাচ্ছে, গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যেই হারিয়েছে বহু জলাধার। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া থেকে শুরু করে বন্যা ও খরার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।
সমীক্ষার মূল তথ্য (Dam And Reservoir)
স্টকাস্টিক এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট (SERA) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেশের প্রায় ৩০০টি জলাধারের সরকারি রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হয়েছে(Dam And Reservoir)। যেগুলির ধারণক্ষমতা ১০ কোটি কিউবিক মিটারের বেশি। ফলাফলে উঠে এসেছে, হিমালয় অঞ্চল, নর্মদা-তাপী অববাহিকা, পশ্চিমঘাট ও গঙ্গা অববাহিকার বহু জলাধারের ক্ষমতা অর্ধেক কমে গিয়েছে।
গবেষকদের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে আরও অনেক নদীর জলাধার একই পরিস্থিতিতে পৌঁছতে পারে।
কেন হচ্ছে এমন(Dam And Reservoir)
বিশেষজ্ঞদের দাবি, তিনটি কারণে বাঁধে পলি জমে যাচ্ছে দ্রুত –
- কৃষিকাজের জন্য অতিরিক্ত মাটি কেটে নেওয়া
- জঙ্গল কেটে ফেলা
- প্রবল বন্যা
এর ফলে নদীর প্রবাহে প্রচুর পরিমাণে মাটি ভেসে এসে বাঁধ ও জলাধারে জমে থাকছে।

আরও পড়ুন : Supreme Court On SIR : বেআইনি কর্মকাণ্ড ধরা পড়লে গোটা প্রক্রিয়াই বাতিল, SIR নিয়ে সতর্ক করলো শীর্ষ আদালত
গবেষকদের সতর্কবার্তা(Dam And Reservoir)
আইআইএসইআরের অধ্যাপক সোমিল স্বর্ণকার, যিনি গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন, বলেছেন – ভারতের বাঁধ সুরক্ষা আইন (২০২১) অনুযায়ী ৫,৭০০টি বাঁধের পরিকাঠামোতে নজরদারি চলছে(Dam And Reservoir)। কিন্তু শুধু দেওয়াল বা লকগেট ঠিক থাকলেই বাঁধকে সুরক্ষিত বলা যায় না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘যে জলাধারের ধারণক্ষমতা অর্ধেক কমে গিয়েছে, তা হয়তো ভাঙবে না, কিন্তু একে সুরক্ষিতও বলা যাবে না।’’
আরও পড়ুন : IND VS PAK Asia Cup : পাক দলের সঙ্গে ম্যাচ খেললেও হাত মেলানো এড়িয়ে গেলেন সূর্যকুমার-শিবম দুবেরা
পলি নিষ্কাশনের গুরুত্ব(Dam And Reservoir)
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পলি অপসারণ না করলে বাঁধের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাবে(Dam And Reservoir)। পলি জমে থাকলে –
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হবে
- কৃষিজল সরবরাহে সংকট দেখা দেবে
- অববাহিকায় বন্যার সম্ভাবনা বাড়বে
কানপুর আইআইটির ভূবিজ্ঞানী অধ্যাপক রাজীব সিংহ বলেন, ‘‘এই গবেষণা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে। বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আধিকারিকরা এগুলি কাজে লাগাতে পারবেন।’’
আরও পড়ুন : IND VS PAK Asia Cup : পহেলগাঁওয়ে নিহতদের পরিবার এবং সেনাবাহিনীকে জয় উৎসর্গ করলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব
সামনে কী আশঙ্কা
আইআইএসইআরের রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে বহু বাঁধ কার্যত অক্ষম হয়ে পড়বে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জল সরবরাহ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে। পাশাপাশি নদীতে পলি জমে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


