Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : লাদাখের বিক্ষোভ ও সহিংস ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সিবিআই এবার নজর রেখেছে লাদাখের খ্যাতিমান পরিবেশকর্মী, সমাজকর্মী ও ইঞ্জিনিয়ার সোনম ওয়াংচুকের দিকে(Ladakh Unrest)। ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার আমির খানের ‘র্যাঞ্চো’ চরিত্রের আদলে তৈরি হওয়া এই বিজ্ঞানীকে লাদাখের (Ladakh) বুধবারের সহিংস বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA) লঙ্ঘনের অভিযোগে সিবিআই তদন্ত শুরু করেছে।
ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই (Ladakh Unrest)
পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিবিআই কয়েক দিন ধরে ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে(Ladakh Unrest)। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি। আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা যদি বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে চায়, তাহলে সরকার থেকে নির্দিষ্ট ছাড়পত্র নিতে হয়। সেই ছাড়পত্র না নিলে এফসিআরএ-এর অধীনে মামলা দায়ের হতে পারে। ওয়াংচুকের সংস্থা ‘হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস লাদাখ’ (HIAL) এবং ‘স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ’ (SECML) এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।
বিদেশি অনুদান গ্রহণের অভিযোগ (Ladakh Unrest)
ওয়াংচুক জানিয়েছেন, প্রায় ১০ দিন আগে সিবিআই-এর তদন্তকারী দল সরকারি নির্দেশপত্র নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিল(Ladakh Unrest)। তিনি বলেন, “সিবিআই জানিয়েছে, আমাদের বিরুদ্ধে এফসিআরএ-র অধীনে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া বিদেশি অনুদান গ্রহণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমরা বিদেশি তহবিলের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না, তবে আমাদের জ্ঞান রফতানি করে তার বিনিময়ে খরচ সংগ্রহ করি। এই তিনটি ক্ষেত্রে তারা ভেবেছে এটি বিদেশি অনুদান।”
সিবিআই আধিকারিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য HIAL ও SECML-এর দফতরে গিয়েছেন এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রাপ্ত বিদেশি অনুদানের বিবরণ চেয়েছেন। ওয়াংচুক অভিযোগ করেছেন, সরকারি নির্দেশে ২০২২-২৪ সালের অনুদান নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত হলেও সিবিআই ২০২০ ও ২০২১ সালের নথি তলব করেছে।

আরও পড়ুন : Ladakh Protest : লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনার দাবি বিক্ষোভকারীদের! কী এই ষষ্ঠ তফসিল?
পরিবেশ ও স্বশাসনের দাবি(Ladakh Unrest)
ওয়াংচুকের সংস্থা রাষ্ট্রপুঞ্জ, সুইৎজারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইটালির একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় জ্ঞান সরবরাহ করে(Ladakh Unrest)। এর আগে লাদাখ অঞ্চলে হিমবাহ গলানো, নগরায়ন, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকে প্রাকৃতিক সমস্যার জন্য দায়ী করেছেন তিনি। পরিবেশ ও স্বশাসনের এই বিষয়ে তরুণদের মধ্যে বিশেষভাবে সমর্থন পান।
প্রসঙ্গত, ৬ অক্টোবর কেন্দ্রের সঙ্গে লাদাখের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে, বুধবার লেহ শহরে কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী বিক্ষোভ করেন। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন বিজেপির পার্টি অফিসে আগুন ধরানো হয় এবং অফিসের সামনে থাকা একটি পুলিশের গাড়িতেও আগুন লাগে। সংঘর্ষে মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। সরকারের অভিযোগ, সোনম ওয়াংচুকের উস্কানিই বিক্ষোভের অন্যতম কারণ।
আরও পড়ুন : Indian Navy Commission Androth : ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিচ্ছে দ্বিতীয় ASW-SWC যুদ্ধজাহাজ ‘আন্দ্রোথ’
লাদাখে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা (Ladakh Unrest)
এই ঘটনায় লাদাখে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে(Ladakh Unrest)। কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত ও আগামী বৈঠকের ফলাফল ভবিষ্যতে লাদাখের স্বশাসন ও রাজ্যের মর্যাদা সংক্রান্ত দাবির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তরুণ সমাজের সঙ্গে ওয়াংচুকের সম্পর্ক ও আন্দোলনের নেতৃত্বের প্রেক্ষাপটে এই মামলার ফলাফল নজরকাড়া হতে চলেছে।


